‘জাতিসংঘ ছোট দেশগুলোর সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেয় না’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

যে দেশ যতবেশি শক্তিশালী, সেই দেশ ততবেশি জাতিসংঘ নীতি লঙ্ঘন করে থাকে। জাতিসংঘ ছোট দেশগুলোর সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয় না এবং বড় দেশগুলো জাতিসংঘের নীতি পদদলিত করে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের প্রথম দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডি ও জাতিসংঘ যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে জাতিসংঘকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া পরামর্শ দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসীর মতো বিষয় যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো জাতিসংঘে অবহেলিত হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে কয়েকটি শক্তিশালী দেশ আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে জাতিসংঘ অনৈতিক ও অন্যায্য একটি সংস্থা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা ও দেশের সার্বভৌমত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ এবং এটি ওই সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ছোট দেশগুলোর দর্শন ও ইচ্ছার প্রতিফলন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ডকুমেন্টে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব যে মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে ওই মানদণ্ডে সারাবিশ্বে মানবাধিকারকে পরিমাপ করা হয়। সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ব্যবস্থা দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন মিজানুর রহমান।

অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, জাতিসংঘের গুরুত্ব নির্ভর করবে প্রতিটি দেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধ কতটুকু নিশ্চিত করতে পারে তার ওপর।

করোনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়ার দায়িত্ব জাতিসংঘের। কারণ এই মহামারির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খারাপ অবস্থা জনসমক্ষে চলে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবাধিকারের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতি জোর দেন তিনি।

জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বিষয়াবলীর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আলোচনা চলছে। জাতিসংঘ এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় সংস্থা যেখানে সবদেশ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলতে পারে। তবে অভিবাসী বিষয়টি জাতিসংঘে অবহেলিত, বিশেষ করে মহামারি সময়ে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার করোনার টিকা বণ্টনের বিষয়ে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বাজেট আরও বাড়াতে হবে। কারণ এটি মৌলিক অধিকার।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার এশিয়া প্যাসিফিক সেকশনের প্রধান ররি মানগুভেন বলেন, মিয়ানমারে সমস্যা প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]