নদী নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ৩৫০ কি.মি. পরিভ্রমণ চার শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে হাইকিং ফোর্স বাংলাদেশ ক্লাবের উদ্যোগে ৩৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী। ১১ দিনের এই পরিভ্রমণ চলতি মাসের ১৩ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শুরু হয়। এরপর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হয়ে শমসেরনগর, কুলাউড়া, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, জাফলং, বিছনাকান্দি, কোম্পানিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, লালপুর পরিভ্রমণ করেন তারা।

পরিভ্রমণটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্লাবের প্রধান সংগঠক মাসফিকুল হাসান টনি। তিনি বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জাকিয়া রাফা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশ্বনাথ ভৌমিক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম রহমান।

পরিভ্রমণের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। তাই এর প্রতি সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে তাদের এই আয়োজন।

পরিভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দলনেতা মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, পরিভ্রমণ আমাদের দেশে একদমই নতুন নয়। তবে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বেশ কম। তাছাড়া ভ্রমণকারীদের মাঝে এ ধরনের ভ্রমণসম্পর্কিত জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। অন্যান্য ভ্রমণ মাধ্যমের তুলনায় হাইকিং বেশ ভিন্ন। হাইকিং বা পরিভ্রমণ বেশ রোমাঞ্চকর, কষ্টকর এবং অভিজ্ঞতা অর্জন ও জানার বিশেষ মাধ্যম ও বটে।

তিনি বলেন, এ ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে দলের সদস্যরা শিখেছেন সময়ানুবর্তিতা, তাদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতা, যেকোনো পরিবেশ পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, ধৈর্যশীল হওয়া, অন্যের সাথে মিলে মিশে চলা ইত্যাদি।

টনি বলেন, ১১ দিন নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কেটেছে সময়। প্রতিদিনের পরিবেশ, রাত কাটানোর জায়গা সবই থাকতো ভিন্ন। যাত্রাপথে হয়েছে অনেক নতুন বন্ধু। অনেক মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে খুব কাছে থেকে দেখার এবং জানার সৌভাগ্য হয়েছে।

হাইকিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ভ্রমণ রুট দিয়ে আগে কেউ পরিভ্রমণ করেছে কিনা জানি না। না করে থাকলে আমরাই প্রথম এক্সপ্লোর করলাম রুটটি। অনেক ছোট থেকেই হাঁটাহাঁটি বেশ ভালো লাগে। যখন হাইকিং সম্পর্কে জানতে পারি তখন ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়। স্বপ্ন একজন বিশ্বমানের হাইকার হওয়ার। খুব শিগগিরই আমরা ক্রস কান্ট্রিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিভ্রমণ অভিযান চালিয়ে যাব। তারই লক্ষ্যে আমরা গঠন করেছি Hiking Force Bangladesh ক্লাবটি।

বিএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]