ধর্ষণে জড়িত সবার গ্রেফতার দাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণ, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে তারা সিলেট এমসি কলেজ, খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ ও সাভারে কিশোরী হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেফতারে অভিযান নিশ্চিতের দাবি জানান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘কোনো কিছু না করার পরও দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং শিক্ষক সমাজ সিলেটের এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় বারবার ছাত্রলীগকে দোষারোপ করছে। তাদেরকে বলি, এতে ছাত্রলীগের কিছু যায় আসে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে যাদের এত চুলকানি, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি এই ধর্ষকের তো কোনো দল থাকবে না। তারা এই পৃথিবীতে কলঙ্কিত। এই ধর্ষক নিকৃষ্ট কুলাঙ্গার প্রাণীরা যে দলেরই হোক না কেন তাদের কঠোর বিচার করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘যখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করেন তখনই ধর্ষণের মেগা সিরিয়াল বাস্তবায়ন করছে একদল। যেখানে একটি ধর্ষণের বিচার হবে সেখানে পরপর এতগুলো ধর্ষণ কীভাবে হয়? আমার ধারণা, নুরুল হক নুর বাঁচার জন্য পরিকল্পনামাফিক বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চায়।’

rape-2

তিনি আরও বলেন, ‘নুরা পাগলাকে (ভিপি নুর) আইনি সহযোগিতা ও তাকে নিয়ে রাজনৈতিক দল খোলার আগে জাফরুল্লাহ ও কামাল হোসেনের উচিত মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে তার (নুর) মানসিক চিকিৎসা করানো।’

ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাকে যারা রাজনৈতিক মোড়কে ঢেকে দিতে চায়, পপুলিস্ট প্রপাগান্ডা (জনপ্রিয় প্রচারণা) দিয়ে ধর্ষিতার আর্তনাদকে ভেঙে দিতে চায় তাদের কালোহাত ভেঙে দিতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক মোড়ক দিয়ে ধর্ষককে রক্ষা করতে চেয়েছেন সে সিভিল সোসাইটির প্রতি আমরা বলে দিতে চাই, সে সিভিল সোসাইটি এখন আর সিভিল সোসাইটি নেই। সে সিভিল সোসাইটির অনেকেই ডেভিল অ্যাডভোকেটে পরিণত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ এই ডেভিল সোসাইটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছি।’

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, আরিফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামস ই নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, ফেরদৌস আলম সহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

rape-1

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বলপাইয়ে আদাম এলাকায় খাগড়াছড়িতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে (২৬) গণধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রী লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর ও মামুন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক (২) মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

এফআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]