রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে জবির বোটানিক্যাল গার্ডেন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পাশেই অবস্থিত জবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বোটানিক্যাল গার্ডেন। তবে সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণার অভাবে নষ্ট হয়ে হচ্ছে বিশেষ এই বাগানটি।

গবেষণার জন্য ব্যবহৃত গার্ডেনটির জন্য কোনো রক্ষণাবেক্ষক নেই। জবির পুরো ক্যাম্পাসের জন্য মালি রয়েছে মাত্র দুইজন। তার মধ্যে গার্ডেনটির জন্য কোনো মালি নেই।

ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়তনে ছোট এই বাগান দিয়ে পর্যাপ্ত উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের জন্য আরও বিস্তৃত জায়গা প্রয়োজন, যা এখানে নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গার্ডেনটির চারদিকের সীমানা প্রাচীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের আগাছা, লতাপাতা বাগানটির সৌন্দর্য কমিয়ে দিয়েছে। বাগানের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বোতল যততত্র পড়ে আছে।

অধিকতর গবেষণার জন্য গার্ডেনটিতে নেট হাউজ তৈরি করা হয়। কিন্তু নেট হাউজটির যথাযথ পরিচর্যা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বাগানের টবগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। দেখা গেল, বাগানে বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে অন্যান্য গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বাগান নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন হচ্ছে অসংখ্য জানা অজানা উদ্ভিদের সমাহার। আর এটা বোটানির স্টুডেন্টদের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। আমরা সাধারণত বইয়ে বিভিন্ন গাছ নিয়ে পড়াশোনা করে থাকি। কিন্তু এই পড়াটাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে গার্ডেন আমাদের সুযোগ করে দেয়।

jagonews24

তারা বলেন, বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতির গাছ যেগুলো সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, তা এখানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এতে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ন থাকে। আর বিলুপ্ত গাছ যার অস্তিত্ব নেই, সেসব গাছের নমুনা এখানে রাখা আছে হারবেরিয়ামে। তবে গার্ডেনের কয়েক রকমের গাছের সঙ্গে নেমপ্লেট নেই। এতে শিক্ষার্থীদের গাছ চিনতে সমস্যা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাগানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। কারণে পূর্বে বাগানের ভেতরে বহিরাগতদের প্রবেশ করার ইতিহাস আছে। রাতের বেলায় একজন কর্মচারী বাগানের ভেতরে থাকে। সে রাতের বেলা দেখাশুনা করে। কিন্তু বাগানের দেখাশোনা করার জন্য নির্দিষ্ট করে আলাদা কোনো লোক নেই।’

তিনি বলেন, বাগানে প্লাস্টিক বহিরাগতরা ফেলতে পারে। তবে এগুলো পরিষ্কার করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বাগানের পরিচর্যায় একটু সমস্যা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের যে দুইজন মালি পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত তারা শুধু বাগানের বাইরের অংশটুকু পরিষ্কার করেন।

বাগানের ভেতরে আগাছা নেই বলে দাবি করেন অধ্যাপক ড. কাজী সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যেগুলো আগাছা, অপ্রয়োজনীয় গাছ মনে হচ্ছে সেগুলো আমাদের একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা হয়।

এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]