চাঁদা না দেয়ায় ঠিকাদারকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০২০

চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল সংলগ্ন ঢাকা হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

জানা গেছে, চবি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মালিকানায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেন ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্রুপের নেতা সাদেক হোসেন টিপু। তিনি সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সাদেক হোসেন টিপু দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করছে। আমাকে দেখলেই বলে 'অ ভাই আঁর মিক্কা এক্কানা চঅ না। তখন আমি বলি তোয়ার মিক্কা কি চাইতাম? কিছুদিন আগে শোক দিবসের কার্ড দিয়ে সে দুই হাজার টাকা নিয়ে যায়।’

সর্বশেষ সোমবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে সাইটে যাওয়ার সময় জিরো পয়েন্টে সে আমাকে দাঁড়াতে বলে৷ দাঁড়ালে সে বলে তোকে দাঁড়াতে বললে দাঁড়াস না কেন? আমি বলি কেন দাঁড়াবো?

পরে সে কল দিয়ে আমাকে শাহজালাল হলের সামনে দেখা করতে বলে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে বিষয়টা জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকা হোটেলের সামনে হোটেল থেকে বেরিয়ে আমাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাদেক হোসেন টিপুর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার সময় আমি টহলে ছিলাম। মারধর করতে দেখে এগিয়ে গেলে সাদেক হোসেন টিপু পালিয়ে যায়। পরে প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি অবহিত করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান বলেন, মারধরের ঘটনা শুনেই প্রক্টরিয়াল বডি সেখানে গেছে। এর আগেও সাদেক হোসেন টিপুর নামে বেশকিছু অভিযোগ উঠেছিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

আবদুল্লাহ রাকীব/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]