নিয়ম ভঙ্গ করে একাডেমিক ভবনে জবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ০১:১৮ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে বসতি স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা তাদের এ বসতির জন্য ক্লাসরুমের পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসরুমের সামনেই তাদের বসতি স্থাপনের ফলে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক ও শৃঙ্খলা শিক্ষা কার্যক্রম। এদিকে একাডেমিক ভবন ছাড়তে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বারবার পৃথক নোটিশ দেয়া হলেও তারা ভবন ছাড়তে গড়িমসি করছেন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ক্লাস চলাকালীন কর্মকর্তারা কখনো লুঙ্গি পরে, কখনো দাঁত ব্রাশ করতে করতে অথবা সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় রুম থেকে বের হন। এমতাবস্থায় শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটা আরও অস্বস্তিকর।

এ সকল কর্মকর্তাদের একাডেমিক ভবনে বসতি ছাড়তে নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামানের সাক্ষরিত সেই নির্দেশে ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ এর মধ্যে তাদেরকে একাডেমিক ভবন ছাড়তে বলা হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে তারা সেখানেই বসবাস করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বজলুর রহমান একাডেমিক ভবনের অর্থনীতি বিভাগের ক্লাসরুমের সামনে সিঁড়ির নিচে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ভূগোল বিভাগের সেকশন অফিসার সানভীব আহমেদ বাচ্চু। রসায়ন বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে সিঁড়ির নিচে বসতি গড়েছেন সামসুল আলম নামে ইতিহাস বিভাগের আরেক কর্মকর্তা।

একই বিভাগের পাশে সিঁড়ি ও ক্লাসরুমের মাঝখানে নিজস্ব ঘর বানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সেকশন অফিসার আবু ইমরান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার জাবেদ আলী খান ও বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার আক্তার হোসেন। এছাড়া ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করছেন ভিসি দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. জামাল হোসেন।

এ বিষয়ে ভূগোল বিভাগের কর্মচারী শানভীব আহমেদ বাচ্চু বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যদি কোনো কর্মকর্তা না থাকে তাহলে আমিও থাকব না। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের জন্য ডরমেটরি আছে কিন্তু আমাদের নেই। আমাকে যদি অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমি চলে যাব।’

ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা আরেক কর্মকর্তা জাবেদ আলী খান বলেন, ‘আমার বাবা আগে এখানে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকে এখানে আছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে ডিসেম্বরে চলে যেতে নোটিশ দিয়েছে। তবে আমরা আরও কিছু বাড়তি সময়ের জন্য আবেদন করব।’

এদিকে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও ঘাঁটি গড়েছেন একাডেমিক ভবনগুলোতে।

জানা গেছে, ভূগোল বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন বাসচালক মনির। পরিসংখ্যান বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও মো ফারুক।

তারা ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের কর্মচারী। বজলুর রহমান ভবনে থাকেন কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক তাজুল ইসলাম ও বাসচালক খোকন।

অন্যদিকে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন আব্দুল খালেক, মো. টিপু, মো. আজিজ নামে তিনজন কর্মচারী।

একাডেমিক ভবনে থাকা এ সকল কর্মচারীদেরকেও ভবন ছাড়তে গত ২০ সেপ্টেম্বর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোটিশে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে একাডেমিক ভবন ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে এখনো বসবাস করতে দেখা গেছে এ সকল কর্মচারীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, একাডেমিক ভবন ছাড়তে তাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অনেকে কিছুদিন সময় চেয়ে আবেদন করেছে। সেটা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে জানাবে। তবে একাডেমিক ভবনে যারা বসবাস করছে তাদেরকে চলে যেতে হবে।

রায়হান আহমেদ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]