জবিতে ক্লাসরুমের পাশে কবুতরের খামার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকচারী। এতে কবুতর ঘরের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ক্লাসরুমের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

এছাড়াও ক্লাস করার সময় দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাটা কষ্টকর হয়ে উঠে। দীর্ঘ ৪ বছর থেকে তিনি এখানে কবুতের পালন করে আসছেন। অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কবুতপর পালনকারী শরিফুল ইসলাম বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করছেন রেজিস্ট্রার দফতরের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. শরিফুল ইসলাম। সেখানে ৭-৮টি কবুতর রাখার মতো খাঁচা রয়েছে ৩১টি এবং পাঁচটি খাঁচার সমান কাঠের কবুতর ঘর রয়েছে দুইটি।

কবুতর ঘর দেখার সময় খাঁচাগুলোতে ৬০-৭০টি এবং মুক্ত অবস্থায় ক্লাসরুমের জানালা ও ছাদের উপর আরও কিছু কবুতর বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ক্লাসরুমের জানালা, দেয়াল ও কবুতর ঘরের নিচে বিষ্ঠার ছয়লাব অবস্থায় পড়ে আছে।

ক্লাসরুমের পাশে কবুতর পালনের বিষয়ে গণিত বিভাগের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আসলে দুঃখের বিষয় হলো কবুতর ঘরগুলো একদম আমার অফিসের জানালার পাশে। জানালাতে বিষ্ঠা লেগে থাকে। আমি দুর্গন্ধের জন্য কখনো জানালা খুলতে পারি না।

তিনি বলেন, শুধু কবুতর না, পাশে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করায় তাদের বাসার রান্নার ঝাঁঝ, চিৎকার চেঁচামেচিতে অফিস ও ক্লাস রুমের পরিবেশ খুব খারাপ হয়ে যায়।

কবুতর পালন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেয়ারটেকার শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিকভাবে কয়েকশ কবুতর পালন করে আসছে। এতে ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান ভবনের পাশে সবসময় ময়লা দুর্গন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অতিরিক্ত বেগ পেতে হয়।

এছাড়া কবুতর ঘরের পাশে বসবাস করা একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, এর আগেও আমরা কবুতরের বিষ্ঠার দুর্গন্ধের বিষয়ে তাকে বলেছি। কিন্তু তিনি গবেষণা করছেন বলে জানান। অথচ গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়েছেন কিনা বললে তিনি আর কিছু বলেন না।

এ বিষয়ে কবুতর পালনকারী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি আসলে কিছু কবুতর নিয়ে গবেষণা করে দেখছিলাম লাভবান হওয়া যায় কিনা। আগে অনেক কবুতর থাকলেও এখন আছে ৪০-৪৫টা। কবুতর পালনে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্যারসহ অনেকে জানে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে কেউ বাণিজ্যিকভাবে বা গবেষণার জন্য কবুতর পালন করছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কেউ বাণিজ্যিকভাবে ক্যাম্পাসে কোনো কিছু পালন করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হলে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কবুতর পালন বিষয়ে রেজিস্ট্রার অবগত না থাকার বিষয়ে জানালে পরে শরিফুল ইসলাম আবার বলেন, আসলে কবুতর খাঁচাগুলো সাবেক ট্রেজারার সেলিম ভুঁইয়া স্যারের। তিনি ক্যাম্পাস থেকে চলে গেলেও বাসায় কাজ চলছে বলে আমার কাছে রেখে গেছেন। তিনি নিয়ে যাবেন তাড়াতাড়ি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার মো. সেলিম ভুঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা কথা। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

রায়হান আহমেদ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]