সাখাওয়াত বাঁচলে তার পরিবার বাঁচবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবি
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০

পিতা-মাতা, স্ত্রীসহ চার বছরের কন্যা ও আড়াই বছরের ছেলে সন্তানকে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন রাসেলের পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সাখাওয়াতের জীবন এখন সংকটাপন্ন। ছয় বছর আগে একটি ব্রেন স্ট্রোক এলোমেলো করে দিয়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি পরিবারকে।

স্ট্রোকের থেকে প্রতিদিনই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন সাখাওয়াত। ব্রেন স্ট্রোক, হার্ট ও ফুসফুসের জটিলতায় গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই আছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য সহায়-সম্পত্তি সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন অনেকটাই হাঁপিয়ে উঠেছেন সাখাওয়াত। জীবনযুদ্ধে তিনি এখন অসহায় যোদ্ধা। কখনো ভাবেননি কারো কাছে হাত পাততে হবে। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা অনেক নির্মম। সকলের সহযোগিতায় শিশু সন্তানদের জন্য হলেও বাঁচতে চান ওদের বাবা সাখাওয়াত।

বর্তমানে ভারতের বেঙ্গালুরের নারায়না ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সে প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠীর অধীনে চিকিৎসাধীন সাখাওয়াত। পুলমনারি এন্ডারটেরেকটোমির (থ্রম্বাস) সার্জারির জন্য আপাতত ১৩ লাখ টাকা হলে চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন সাখাওয়াত। এজন্য তার আকুতি-সমাজের কোনো বিত্তবান তার পাশে দাঁড়ালে তিনি হয়তো ফিরে পাবেন তার স্বাভাবিক জীবন। শিশু সন্তানদের নিয়ে সাজাতে পারবেন একটি রঙিন পৃথিবী।

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার চল্লিশা গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত। পড়াশোনা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে (সেশন ২০০২-০৩)।

২০০৯ সালে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে সাখাওয়াত নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে। মেধাবী সাখাওয়াত বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে চাকরি পেয়ে যান। বর্তমানে রয়েছেন বিনা বেতনে ছুটিতে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিতা ও গৃহিণী মা-ও পরিবারের একমাত্র ছেলে সাখাওয়াতের ওপর নির্ভরশীল।

গত ১৯ নভেম্বর বেঙ্গালুর থেকে সাখাওয়াত তার বন্ধুদের উদ্দেশে জানান, ‘বন্ধুরা নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তোমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। আমার এই দুই হাত কোনোদিন কারো কাছে পাতেনি। আজ আমি নিঃস্ব। একদিকে সংসার চালানোর খরচ জোগানো; অন্যদিকে ব্যয়বহুল চিকিৎসা। ২০১৪ সাল থেকে এই পর্যন্ত আমার জীবনের সমুদয় সম্পদ ব্যয় করেছি চিকিৎসার জন্য। জীবনে এই রকম কঠিন মুহূর্ত আসবে কোনোদিন ভাবিনি। তাই তোমাদের দয়া ও সহযোগিতায় আমি সুস্থ হতে চাই, বাঁচতে চাই।’

এ ব্যাপারে শাবির পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘তার ব্রেন স্ট্রোক প্রোটোকল (১৭% ডেমেজ), এ.পি.টিই (পালমোনারি থ্রম্বাস এন্ডারটেরেকটোমি) চিকিৎসার জন্য একটি মেজর সার্জারি, বাম নিম্নতর লিম্বের ডিপ ভেইন থ্রোম্বোসিস (ডিভিটি) এবং ডান নিম্নতর লিম্বের ভেরিকোজ শিরার মেজর সার্জারি করাতে হবে। সকল চিকিৎসা শেষ করতে অন্তত ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপির প্রয়োজন। যা বাংলাদেশি টাকায় সর্বসাকুল্যে ১৩ লাখ টাকা। এ প্রেক্ষিতে আমরা শাবির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তা চাচ্ছি।’

সাখাওয়াতকে সহযোগিতা করবেন যেভাবে-

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম : Md Shakawath Hussain, অ্যাকাউন্ট নম্বর : 0200005933089, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা কর্পোরেট শাখা, ঢাকা।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম : Dilara Rahman, Zayeda Sharmin and Md. Shahjahan Chowdhury, অ্যাকাউন্ট নম্বর : 6301103615166001, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, সুবিদবাজার শাখা, সিলেট।

আমিনুল ইসলাম (বিকাশ): ০১৭১৯৪৫১৪১০

মো. নাজমুল হক (রকেট): ০১৭৪৭৮২৫১৩৪৯

মোয়াজ্জেম হোসেন/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]