কোটি টাকা অনিয়ম প্রমাণের পরেও পদে বহাল বশেমুরবিপ্রবির পিডি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০২০

কোটি কোটি টাকা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবগত থাকার পরও পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া।

সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদফতর তার বিরুদ্ধে এই অনিয়মের প্রমাণ পায় বলে তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই আশিকুজ্জামান ভূঁইয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই এই প্রকল্পে ঘটছে একের পর এক অনিয়ম। আর চাঞ্চল্যকর এ সকল অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছে সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনেও।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া প্রকল্প পরিচালকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় বাবদ সর্বমোট ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৯ টাকা অগ্রীম প্রদান করেন। তবে এ সকল জিনিসপত্রের বড় একটি অংশের চাহিদা না থাকায় তা অব্যবহৃত অবস্থায় বর্তমানে নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া গত বছরের ২৪ জুলাই নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে ১ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা সরিয়ে নেন তিনি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে সেই টাকা ১৪ নভেম্বর আবার আগের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেন এবং বন্ধ করে দেন সেই অ্যাকাউন্টটি। এক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করেননি তিনি। তার এমন অনিয়মের কারণে প্রকল্পের লভ্যাংশ ক্ষতি হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এটিকে ‘নিয়মবহির্ভূত ও অনিয়ম’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা নিজে ভিন্ন অ্যাকাউন্টে নেয়াসহ অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি উপ-পরিচালক (হিসাব) শেখ সুজাউদ্দিন বলেন, ‘এতে আমাদের কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। আমাদের কাছে কোনো ফাইলও আসেনি। পরিকল্পনা, প্ল্যানিং ও ওয়ার্কস অফিস নিজ দায়িত্বে অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করেছে।’

উপ-পরিচালক (প্লানিং) তুহিন মাহমুদ বলেন, ‘সহকারী পরিচালক (হিসাব) আমার রুমে এসে বলেছিলেন একটি অ্যাকাউন্ট খোলা লাগবে। যৌথ অ্যাকাউন্টে আমার সিগনেচার দেয়ার কথা। আমি ও পিডি ওদের কথায় সিগনেচার দিয়ে দিয়েছি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ব্যাংক শাখার তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পিডির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না সেটা তিনি বলতে পারবেন না।’

অনিয়মের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব বলেন, ‘অনিয়মের এই বিষয়টি ইউজিসি জানে, দুদক জানে, সরকার জানে। সুতরাং আমার বিশেষ কিছু করার নেই। বিষয়টা উপর মহল অবগত না থাকলে আমি তাদের অবগত করতাম।’

সুকান্ত সরকার/এআরএ/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]