‘মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না বানালে ফল খারাপ হবে’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষকদের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও তার বাবার পরিচয় ব্যবহার করে লাগাতার ই-মেইলে হুমকি দেয়ায় এবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এ অভিযোগ জমা দেন সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার।

ই-মেইলগুলোতে ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বানানোর জন্য এবং সিজিপিএ চারে চার প্রদানের জন্য বিভাগটির শিক্ষকদের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান বিভাগটির শিক্ষকরা। এমনকি উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষকদেরও এই ইমেইল করা হয়।

বলা হয়, ‘আমার মেয়েকে শিক্ষক না বানালে ফল খারাপ হবে। আমার ক্ষমতা অনেক দূর পর্যন্ত।’

অভিযোগপত্রে বলা হয়, [email protected][email protected] ই-মেইল থেকে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। চলতি বছরের ২ ও ৯ জানুয়ারি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ কৌশিক আহমেদের ই-মেইলে অরুচিকর ও অশোভনীয় শব্দ ব্যবহার করে এবং বিভাগের শিক্ষকদেরকে ই-মেইলের মাধ্যমে কে বা কারা হত্যার হুমকি দেয়। এবার হুমকি থেকে রেহাই পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান ও অভিযোগপত্র দায়েরকারী মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, বিভিন্ন সময় ই-মেইলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মৃত্যুর হুমকি দেয়া হচ্ছে, আমরা আগেও থানায় জিডি করেছি তবুও এটা বন্ধ হয়নি। এ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজস্ট্রার স্যারকেও হুমকি দেয়া হয়েছে। পরে রেজিস্ট্রারের মৌখিক আদেশে আমরা মামলা দায়ের করেছি।

এসব হুমকি ধামকির ঘটনায় ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ কৌশিক আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন দুইটি মেইল আইডি থেকে আমিসহ বিভাগের সকল শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবারের সদস্যদের গুম করার হুমকিও দিচ্ছে। এমন ঘটনায় আমরা দুশ্চিন্তা ও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছি।

এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, আমি বা আমার মেয়ে কোনোক্রমেই এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছে মামলা করার জন্য। আমরা সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করার জন্য এজাহার দাখিল করে এসেছি। গত পরশুদিন আমাদের একজন কর্মকর্তা জিডি দাখিল করে এসেছেন। তারা তদন্ত করে এটিকে আইনের আওতায় ফেলে মামলা হিসেবে নেবেন।

এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]