সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট হয়ে গেল ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’ রাখা হয়েছে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তাজ নাহার রিপন।

পাশাপাশি আরিফ মঈনুদ্দীনকে সভাপতি, ছায়েদুল হক নিশানকে সহ-সভাপতি এবং উজ্জল বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনু্দ্দীন বলেন, ‘সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জোটবদ্ধ এবং এককভাবে শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপোষহীন সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সংগঠনের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুতর মতপার্থক্যের কারণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এখন তিনটি ধারায় বিভক্ত।’

‘সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নাম নিয়ে এখন তিনটি ছাত্রসংগঠন কাজ করছে। এ অবস্থায় সংগঠনের নাম নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর জন্যে এবং নিজেদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক পরিচয় মূর্ত করে তোলার লক্ষ্যে আমরা সংগঠনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি, পুরনো নামের সঙ্গে অনেক স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে থাকলেও সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যই আমাদের কাছে প্রধান। লক্ষ্যাভিমুখী সংগ্রামে অবিচল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের সংগঠনের নতুন নাম গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের একটি র‌্যালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।

আরিফ মঈনু্দ্দীন আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, পুঁজিবাদী শোষণ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অনুগামী বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মৌলবাদী ধারার ছাত্রসংগঠনগুলো ছাত্রসমাজের আকাঙ্ক্ষায় ও প্রত্যাশা ধারণ করতে পারে না। তাদের নীতিহীন রাজনীতি, ভোগবাদী সংস্কৃতি ও কূপমণ্ডূক দৃষ্টিভঙ্গি ছাত্রসমাজ অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করবে। অন্যদিকে, ছাত্র-জনতার পক্ষে নৈতিক অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও রাজনৈতিক ও দার্শনিক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও গতানুগতিক কর্মপদ্ধতির কারণে বাম ধারার ছাত্র-সংগঠনগুলো ছাত্রসমাজকে ব্যাপকভাবে সংগঠিত করতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন ‘গণজাগরণ মঞ্চ, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু সে আন্দোলনকে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এ বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ছাত্র-আন্দোলনে নতুন সম্ভাবনা ও আশাবাদ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে- এ ব্যাপারে আমরা আস্থাশীল।’

এ সময় তারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো-

প্রথমত, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল-হোস্টেল খুলে দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন বেতন-ফি মওকুফ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, মতপ্রকাশের কারণে হয়রানি-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল-হোস্টেলে একক দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

পিডি/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]