কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় খুবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৪ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

প্রারম্ভিক বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণ, অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, সব দফতরে প্রধান ও নন টিচিং পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক করাসহ আট দফা দাবিতে উপাচার্যের বাসভবন অভিমুখে যাত্রা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শতাধিক কর্মকর্তা। এ সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বেরিয়ে এলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশনের মুখপাত্রদের নিয়ে হঠাৎ কর্মকর্তারা কর্মস্থল ত্যাগ করে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে তার বাসভবন যান। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে সরে এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এসব দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তারা এতদিন কোনো কর্মসূচি নেননি।

কর্মকর্তাদের দাবি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক রকম নীতিমালা হওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। উপরোক্ত তিনটি দাবি ছাড়াও ফেডারেশনের আট দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কর্মকর্তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সভায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার শতাংশ সরল সুদে করপোরেট ঋণ প্রদান, কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা ও কর্মকর্তাদের অতীত চাকরিকালে অভিজ্ঞতা গণনা বাস্তবায়নকরণ।

জানা গেছে, বাসভবন থেকে উপাচার্য বেরিয়ে এলে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশনের মহাসচিব মীর মো. মোর্শেদুর রহমানসহ ফেডারেশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে উপাচার্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা সম্মেলন কক্ষে আলোচনার জন্য রাজি হন।

আলোচনা শেষে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, এই উপাচার্যের দুই মেয়াদেও আমাদের দাবি দাওয়া পূরণ হয়নি। আমরা আশাবাদী ছিলাম, এবার তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অন্তত কর্মকর্তাদের থার্ড আপগ্রেডেশন হবে।

এ সময় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশনের মহাসচিব মীর মো. মোর্শেদুর রহমান বলেন, আমরা তাদের মেহমান। কিন্তু উপাচার্য হিসেবে তিনি আমাদের সঙ্গে উপাচার্যসুলভ আচরণ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, ফেডারেশনের মুখপাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা নিয়ে যেভাবে হৈচৈ এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর। আর দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে গঠিত কমিটি দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হব।

এদিকে, পরবর্তী সভায় দাবি-দাওয়া আদায় না হলে কর্মকর্তারা নতুন কর্মসূচি নেবেন বলে জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস মীম/এসজে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]