খুবির দুই শিক্ষার্থীর ‘দুঃখ প্রকাশ’, অনশন ভাঙালেন উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনরত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শরবত পান করিয়ে তিনি তাদের অনশন ভাঙান।

এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘আমরা শুধু শিক্ষকই নই, মা-বাবাও বটে। শিক্ষার্থীরা যদি ভালো না থাকে আমরাও ভালো থাকতে পারি না। শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে আবেদন করেছে, দুঃখ প্রকাশ করেছে। আমরা খুব শিগগিরই শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং ডেকে বিষয়টির সুরাহা করব।’

এর আগে অনশনরত এই দুই শিক্ষার্থী দুই দফায় উপাচার্য বরাবর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে আবেদন করেন। তবে সেখানে দুঃখ প্রকাশের কথা উল্লেখ না থাকায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রেরিত পৃথক আবেদনপত্রে দুই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ১ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা আন্দোলন চলার সময় আমাদের অবস্থানস্থলে দুজন শিক্ষকের গাড়ি চালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার আলোকে যে দুজন শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সে ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

‘এ কথা স্বীকার্য যে, শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ অবশ্যই অনাকাঙিক্ষত বিষয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালীন অবস্থায় আমরা এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করিনি। ইতোপূর্বে এমন কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে নেই। তবুও সৌজন্যের সঙ্গে বলছি যে, আমাদের অজ্ঞাতে হলেও আমাদের শিক্ষক যদি আমাদের দ্বারা কোনো কষ্ট পেয়ে থাকেন তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আবেদনপত্রে সার্বিক ঘটনা বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইয়ের মধ্যস্থতায় উপাচার্য বরাবর দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করেন ওই দুই শিক্ষার্থী।

গত সপ্তাহের সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুম ইসলাম সোহান (১৭ ব্যাচ) এবং বাংলা ডিসিপ্লিনের মোবারক হোসেন নোমান (১৮ ব্যাচ) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন।

মোবারক হোসেন নোমান বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এজন্য আজ আমরা অনশন থেকে সরে এসেছি। আমাদের পাশে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত বলেন, ‘আমরা এই অনশন কর্মসূচির শুরু থেকেই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। এরমধ্যে ক্যাম্পাসে তৃতীয় পক্ষ ঢোকার চেষ্টা করেছিল। আমাদের ক্যাম্পাসকে সব সময় নিরাপদ এবং সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর ছিলাম এবং আছি।’

আলমগীর হান্নান/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]