জাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিখা পিরেগুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বহিষ্কারের দাফতরিক আদেশ গণমাধ্যমের কাছে আসে।

এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গত ১৮ নভেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, বিশেষ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আবেদনপত্রে বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর ও সীলমোহর জালিয়াতি সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মিখা পিরাগুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮ এর ৩ (২) (ক) ধারা অনুযায়ী সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দিন থেকে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার মিখা পিরেগু বলেন, ২০১৭ সালে আমি একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য বিভাগীয় সভাপতির সিল ও স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে জমা দিয়েছিলাম। বিভাগ থেকে মিটিং করেই এটা অনুমোদন করেছিল। কিন্তু উপাচার্য অফিস থেকে কোনো কারণ ছাড়াই এটি পারমিট না করায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে আমাকে আবার আবেদন করতে বলা হয়। শীতকালীন ছুটির কারণে ক্যাম্পাস ছুটি ছিল বলে আমি প্রথমবার জমা দেয়া মূল কপিটার ফটোকপি জমা দিয়েছিলাম।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছেন এবং সেটি চলমান আছে বলেও জানান তিনি।

মার্কেটিং বিভাগের বর্তমান সভাপতি মো. কাশেদুল ওহাব তুহিন বলেন, আমি ওই সময় বিভাগের সভাপতি ছিলাম না। তবে যতটুকু শুনেছি, বিভাগ থেকে তার আবেদনপত্রটি ফরোয়ার্ড করা হলেও উপাচার্যের ফাইনাল অ্যাপ্রুভালের সময় এটি রিজেক্ট হয়ে যায়। ওনাকে আবার আবেদন দিতে বলা হলে তিনি বিভাগের সুপারিশ ছাড়াই আবেদনটি করেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে ওই আবেদনপত্রে উনি যে তারিখ দিয়েছেন ওই তারিখে বিভাগের তৎকালীন সভাপতি (নাঈমা আহমেদ) ছুটিতে ছিলেন।

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, তাকে যে কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে সেটির জন্য সে রিভিউ আবেদন করেছে। ছাত্র ইউনিয়নের একজন কর্মী এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আরও ভালোভাবে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। আমরাও সংগঠন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তা খতিয়ে দেখব।

ফারুক হোসাইন/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]