লেখক মুশতাক ‘হত্যার’ প্রতিবাদে ঢাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:০৩ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাশিমপুর কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে ‌‘হত্যা’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ‘লেখক মুশতাক আহমেদ-এর হত্যাকারী রাষ্ট্র’ ব্যানারে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে একটি মিছিল শাহবাগ ঘুরে ফের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রই এই লেখককে হত্যা করেছে। তার অপরাধ কি ছিল? তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। তিনি লেখার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। দশ মাস ধরে তাকে জামিন দেয়া হয়নি। আমরা দেখছি, পুরো দেশের মানুষ কেমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ একজন কৃষককে গলায় পা দিয়ে হত্যা করেছে।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, এই রাষ্ট্রের জেলখানার ভেতরে কি বাইরে পুরো দেশটাকেই জেলখানায় পরিণত করা হয়েছে। লেখক মুসতাকের লাশের ওপর হাত রেখে শপথ করে বলতে চাই- এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য ফ্যাসিবাদী সরকার দায়ী। এদেশের মানুষ পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে লেখক মুশতাকের বলিদানকে অম্লান করে রাখবে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয় বলেন, ‘লেখক মুশতাককে হত্যা করার জন্য অবৈধ শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে লেখক, কলামিস্ট, ব্লগারদের গ্রেফতার করছে। তাদের ভয় হয় সত্যের মুখোমুখি হওয়ার, ভয় পায় যুক্তিকে। তাই তারা কোনো সত্যের সামনে দাঁড়াতে চায় না। এই সরকার একটা স্বৈরতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী সরকার। এই হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে এই সরকারের ক্ষমতাই থাকার কোনো অধিকার নেই। এই সমাবেশ থেকে এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। গুম, খুন, হত্যার মাধ্যমে এই সরকার তার পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

jagonews24

বিক্ষোভ মিছিল শেষে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে লেখক মুশতাকের হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ‘যে রাষ্ট্র হত্যাকারী, সে রাষ্ট্র ভেঙে দাও’, ‘যেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদী, সে রাষ্ট্র ভেঙে দাও’, ‘যে রাষ্ট্র ভোট চোর, সে রাষ্ট্র ভেঙে দাও’, ‘ফ্যাসিবাদ যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’, ‘এরশাদ গেছে যে পথে, হাসিনা যাবে সে পথে’, ‘আইয়ুব গেছে যে পথে, হাসিনা যাবে সে পথে’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (একাংশ) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনউদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা লিটন নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আল সাদী/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]