ঢাবিতে আগের ন্যূনতম জিপিএ বহাল রাখার দাবি ভর্তিচ্ছুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় আগের ন্যূনতম জিপিএ বহাল রাখার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছুরা। মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।

দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে উপাচার্য কার্যলয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। উপাচার্য জরুরি বৈঠকে থাকায় একজন সহকারী প্রক্টর স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ’র বিষয়টি তারা আলোচনা করে পারে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

স্মারকলিপিতে ভর্তিচ্ছুরা কী বলেছেন, তা জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
‘শুভেচ্ছা জানবেন। আমরা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। আপনি অবগত যে, গত প্রায় এক বছর যাবৎ করোনা মহামারির কারণে সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও শিক্ষাকার্যক্রম স্থবির রয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি করে। এই প্রক্রিয়ায় ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও বাতিল ঘোষণা করে। অবশেষে ১২ অক্টোবর ২০২০ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অটোপাসের ঘোষণা দেয় এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ এসএসসি/সমমান এবং জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। অটোপাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে- এই আশঙ্কায় আমাদের অনেকেই অটোপাসের বিরোধীতা করে। কিন্তু সেই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অটোপাসের জন্য এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যাতে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় না পড়ে সেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেসময় আমরা মন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলাম এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।

অভিজ্ঞাতার আলোকে বলা যায় ইতোপূর্বে অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পূর্বের পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফল ভাল করার সম্ভাবনা থাকে। আমরাও সেভাবেই এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু চলমান মহামারিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আটোপাসের সিদ্ধান্তের কারণে আমরা আমাদের মেধার সক্ষমতা যাচাই করতে পারিনি। এই ফলাফল ছিল অনেকটা অনুমানভিত্তিক। আমরা ভেবেছিলাম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় না পারলেও অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাব। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই অগ্রগণ্য। সকল শিক্ষার্থীর শৈশবের লালিত স্বপ্ন থাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে কারণে আমরা অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো দূরের কথা ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনেরই সুযোগ পাচ্ছি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গত বছরে ন্যূনতম জিপিএ প্রয়োজন ছিল বিজ্ঞান বিভাগ-৮, বাণিজ্য বিভাগ-৭.৫, মানবিক বিভাগ-৭.০, চারুকলা অনুষদ-৬.৫। কিন্তু গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস কমিটির ন্যূনতম জিপিএ বৃদ্ধি করে বিজ্ঞান বিভাগ-৮.৫, বাণিজ্য বিভাগ-৮.০, মানবিক বিভাগ-৮.০ ও চারুকলা অনুষদ-৭.০ নির্ধারণ করে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম জিপিএ বৃদ্ধি করার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধাতের কারণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশ এবং আমাদের পরিবার অনেক হতাশ এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

করোনা মহামারি একটি বৈশ্বিক ব্যাপার। এর জন্য শুধু আমরা কেন ভুক্তভোগী হব? আমরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলাম না, এখন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারি তবে কোথায় যাব, কী করব? আমরা বলছি না যে আমাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তি নিতে হবে। আমরা শুধুমাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চাই। তাছাড়া আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি ভর্তি পরীক্ষায় যারা মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকবে তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।

তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আপনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ বৃদ্ধি না করে পূর্বের জিপিএ বহাল রাখা হোক।’

শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জহিরুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, শাহ আলম, জাকির হোসেন এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাবির সংগঠক জাবির আহমেদ জুবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মন তমা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় প্রমুখ।

পিডি/ইএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]