উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ শূন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইবি
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ০৩ মার্চ ২০২১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম তোহার মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ২০ ও ২১ আগস্ট। সরকার ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইবির নতুন উপাচার্য হিসেবে ঢাবির অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামকে নিয়োগ দিলেও ৬ মাসেও কোষাধ্যক্ষ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়নি। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য রয়েছে।

এছাড়া গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় এ গুরুত্বপূর্ণ পদটিও শূন্য হয়েছে। পদ দুটি শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক ও নানা উন্নয়নমূলক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকৌশল অফিস সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দশটি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ চলমান। কাজগুলো বাস্তবায়নে দশটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ভিজিলেন্ট টিমের প্রধান, আবার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিরও প্রধান। তিনি না থাকায় উপাচার্য তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে এসব টিম-কমিটির প্রধান হয়ে কাজ করছেন। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ না থাকায় অর্থ ও হিসাব শাখার বিভিন্ন কাজেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুন্সি শহিদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হলেন সকল আর্থিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান। তিনি না থাকলে আসলেই কোনো কাজ সময়মতো হয়ে ওঠে না। ভিসি স্যার নির্বাহী ক্ষমতাবলে বিভিন্ন বিলের অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজের সুপারিশ করছেন। যা তার জন্য অনেকটা চাপের।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি টানা দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব শেষ করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান। তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় একাডেমিক বিভিন্ন কার্যাদি যেমন- পুনঃভর্তি, হল পরিবর্তন, মাইগ্রেশন, এমফিল-পিএইচডি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত কার্যাদিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য প্রধানত উপাচার্যের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। এতে উপাচার্যের ওপর চাপ কম থাকে এবং প্রশাসনিক কাজও দ্রুত সম্পন্ন হয়। তবে বর্তমানে উপ-উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় সব ধরনের একাডেমিক-প্রশাসনিক কাজ একাই উপাচার্যকে করতে হচ্ছে। ফলে উপ-উপাচার্য ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব সভা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান বলেন, কোষাধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকায় আর্থিক বিলে স্বাক্ষর-অনুমোদন দিচ্ছেন উপাচার্য স্যার। কোষাধ্যক্ষ সকল আর্থিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দরকার। এছাড়া উপ-উপাচার্যের কাজও উপাচার্য স্যার অতিরিক্ত হিসেবে পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ এ গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদের নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য (রাষ্ট্রপতি)। প্রশাসনের এ দুই দায়িত্ব পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা। তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বেশ আগে থেকেই। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের কে কতটুকু দক্ষহাতে প্রশাসন চালাতে পারবেন তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

রায়হান মাহবুব/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]