রাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ নিতে শিক্ষকদের গলদঘর্ম অবস্থা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

‘সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য কার্যালয় ও বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান শিক্ষকদের দেখা করেননি’- এমন অভিযোগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির শিক্ষকরা।

এছাড়া রাবি উপাচার্য শিক্ষকদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছেন বলে অভিযোগ তুলেন তারা।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা উপাচার্য কার্যালয় ও বাসভবনে গিয়ে ১৫ জন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর এ অভিযোগ তোলেন।

কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করছেন না। গত সোমবার (১২ এপ্রিল) ৯ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে, সেই চিঠি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি দেখা করেননি’।

স্টিয়ারিং কমিটির নবনির্বাচিত সদস্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস এম একরাম উল্যাহ বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তার অফিসে গিয়ে সচিবের সঙ্গে কথা বলি। সচিব জানান, উপাচার্য অফিসে নেই, গাড়ি নিয়ে বাইরে গেছেন। কিন্তু আমরা জানতে পারি, উপাচার্য অফিসে না থাকলেও বাসভবনে রয়েছেন। সেখানেই তিনি নিচতলায় অফিস করছেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করা হলে সেখানেও জানানো হয়, উপাচার্য নিচতলায় নেই। তিনি ওপর তলায় উঠে গেছেন। তিনি অফিসের কোনো কাজ করছেন না। তবে বাসভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানান, উপাচার্য নিচে বসেই অফিস করছেন। এমনকি আমাদের সামনেই অফিস থেকে কিছু ফাইল স্বাক্ষর করে নিয়ে আসা হয়।'

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, এর আগেও উপাচার্য দলীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে গত ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টায় সিনেট ভবনে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ে তারা ১৬ জন সিনেট ভবনে উপস্থিত হন।

তখন তারা উপাচার্য অফিসে যোগাযোগ করে ৫ এপ্রিল সিনেট ভবনে এ ধরনের কোনো সভার কর্মসূচি নেই বলে জানতে পারেন । এছাড়াও উপাচার্যের দৈনিক কর্মসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত ছিল না বলেও উপাচার্য দফতর থেকে তারা জানতে পারেন।

করোনাকালে লকডাউন থাকলেও উপাচার্য মেয়াদের শেষ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এ্যাডহক নিয়োগ দেবেন বলেও আশঙ্কা করছেন এ কমিটির সদস্যরা।

তবে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী জাকারিয়া এবং রেজিস্টার অধ্যাপক আবদুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কমিটির সদস্যরা।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, 'স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা কিছু দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তাদের দাবিগুলো আমার কাছে জানিয়েছেন’।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে উপাচার্য দফতরের সচীব মীর শাহজাহান আলী জাকির বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শিক্ষকরা এসেছিলেন তবে দেখা করতে পারেনি। তিনি অসুস্থ থাকায় অল্প কাজ করে উপরে চলে যান।

সালমান শাকিল/এসএমএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]