বাঁশখালীতে শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে দুই দফা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রট ও ৫টায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ঢাবির প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ বাক-বিতণ্ডার পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যান।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘যে শ্রমিকরা দিন এনে দিন খেয়ে জীবন অতিবাহিত করছে তাদের ওপর গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে বাংলাদেশ আজকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মানুষের নূন্যতম কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। মানবিক অধিকার নেই। আজকে কথা বলা মানে মামলা, গুম, কথা বলা মানে পুলিশের গুলি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘শ্রমিকদের ওপর যেভাবে আক্রমণ করা হলো এটা অমার্জনীয়। আজকে লকডাউনের মধ্য মানুষের জীবিকা চালানোর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না এ রাষ্ট্র। চীনা কোম্পানির স্বার্থ দেখার জন্য দেশের মানুষের ওপর গুলি করা হয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘বাঁশখালীর ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ আজকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করে টিকতে পারেনি, আওয়ামী লীগও পারবে না। পুলিশের হামলা-আক্রমণ আপনাদের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে পারবেন না।’

এ সময় আন্দোলনকারীরা ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মেঘ মল্লার বসু, ছাত্র ফেডারেশনের (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল) সভাপতি মিতু সরকার, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির প্রমুখ।

এসএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]