হল চালুর আগেই অকেজো আসবাবপত্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ১০:২৩ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

হল চালু হওয়ার আগেই নির্মাণাধীন অবস্থায় অকেজো হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আসবাবপত্র। কাজ শেষ করার পূর্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান গত বছর ২০ অক্টোবর তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে নির্মাণাধীন ১৬তলার ১ হাজার আসনবিশিষ্ট এ হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে ২০ অক্টোবরে হলটি উদ্বোধন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় ক্যাম্পাস খুললে তোলা হবে শিক্ষার্থী।

তবে উদ্বোধনের ৫ মাস পেরুলেও এখনো চলমান রয়েছে হলের পুরোপুরি প্রস্তুতির কাজ। কিন্তু হলে ছাত্রী উঠার আগেই ব্যবহৃত অনেক চৌকি (খাট) ও অন্যান্য আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। নিম্নমানের আসবাবপত্র কেনার অভিযোগও ওঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ওপর থেকে ১৬-৭তলা পর্যন্ত চৌকির কাঠে ঘুনে ধরে সেগুলোর অধিকাংশ দুর্বল প্রায়। কোনো কোনো চৌকির কাঠ উঠে গেছে ও ভেঙ্গে গেছে। আর কাঠগুলো নিম্নমানের হওয়ায় চৌকির অধিকাংশ কাঠই ফাটা।

পায়া ভাঙাগুলো স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। কিন্তু ভবনের নিচ থেকে প্রথম ৬তলার চৌকি ভালো থাকতে দেখা যায়। এগুলোর কাঠের মান ভালো হওয়ায় ঘুনে ধরা, ভেঙ্গে পড়া বা ফাটা কাঠ দেখা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র থেকে জানা গেছে, পরিদর্শকদের চোখ এড়াতে প্রথম ৫-৬ তলার আসবাবপত্রগুলোর মান ঠিক রাখা হয়েছে।

জানা যায়, হলটির আসবাবপত্র কেনা হয় বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে এ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ বছর আগে কেনা হয় খাটগুলো। কিন্তু ১ বছরের মধ্যেই এবং ছাত্রী উঠার আগেই এগুলো কিভাবে নষ্ট হয়ে যায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে হলের আসবাবপত্র ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে কিছু চৌকিখাট ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে লক্ষ্য করেছি। এগুলো মিস্ত্রিরা কাজ করার সময় পানি ও ময়লা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে হয়তো। আমরা বিএফআইডিসিকে জানিয়েছি। তারা নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্রগুলো ঠিক করে দেবে।

তিনি বলেন, টেন্ডার দিয়ে কাজ করালে অনেক সময় খারাপ হয়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএফআইডিসি থেকে আসবাবপত্র কেনার পরামর্শ দেন সাবেক ভিসি (ড. মীজান)। আমরা এখনো সম্পূর্ণ পেমেন্ট করিনি। নষ্টগুলো তারা ঠিক করে দেবে।

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট ড. শামীমা বেগম বলেন, আমাকে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হল বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। হল বুঝিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে চৌকি ও টেবিলসহ আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে দেখেছি। আর যখন আমার কাছে হল হস্তান্তর করে দেবে ছাত্রী তোলার আগে অবশ্যই সবকিছু দেখে শুনেই নেব।

রায়হান আহমেদ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]