সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে ‘মর্যাদাহানি’র অভিযোগ শিক্ষকের

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:০৮ এএম, ১৩ মে ২০২১ | আপডেট: ০২:৪১ এএম, ১৩ মে ২০২১
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলেছেন ওই অনুষদভুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন।

মঙ্গলবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন করে তদন্তসাপেক্ষে বিচার দাবি করেছেন তিনি। উপাচার্য অফিস ছাড়াও অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের লিখিত আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

আবেদনে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন লেখেন, ‘গত ৮ মে রাত ৯টা থেকে আনুমানিক সোয়া ১১টায় অ্যান্থ্রোপাবলিক (Anthropublic), মাইক্রো গভর্ন্যান্স রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (Micro governance Research Initiative) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ভিকটিম দোষারোপের সংস্কৃতি’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে আমি অংশগ্রহণ করি। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ই-মেইলে এতে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।’

‘ওয়েবিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল, দেশের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষামন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু অনষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে অন্যতম কো-হোস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ভদ্রবেশে আমার উদ্দেশে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে অযাচিত ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ‘পাগল টাগল নাকি’ বলে চরম মানহানিকর নোংরা ভাষা প্রয়োগ করেন, যা অংশগ্রহণকারী সবাই দেখতে ও শুনতে পান এবং তা ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন তার আবেদনে বলেন, ‘আমি মনে করি তার (সাদেকা হালিম) এ ধরনের মন্তব্য হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা তিনি আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করেছেন, যা তার পাবলিক নুইসেন্স ও প্রফেশনাল মিস কনডাক্ট (Public Nuisance & Professional Miss Conduct) অসদাচরণের বহিঃপ্রকাশ।

আবেদনে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনে আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় তথা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একজন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে এতে আমার মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ডিজিটাল পাবলিক প্লেস বা উন্মুক্ত স্থানে হাজার হাজার মানুষের সামনে তার এই ধরনের হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক শিষ্টাচার বহির্ভূত মানহানিকর মন্দ ও নোংরা বক্তব্য সামাজিকভাবে আমার চরম ক্ষতি সাধন করেছে, যার আর্থিক মূল্য অপরিমেয়। এ অবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিকট আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে আমার মতো একজন সিনিয়র সহকর্মী শিক্ষকের প্রতি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম কর্তৃক এই ধরনের অসদাচরণের তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি মুখে মুখে ব্যাপারটা শুনেছি। এখনো বিস্তারিত জানি না।’

আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি আমলে নিয়ে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে তুললে তারপর আমরা বক্তব্য দিতে পারবো। এর আগে আমাদের কথা বলার এখতিয়ার নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকা হালিম বলেন, ‘এটা আমি একেবারে স্নেহভরে বলেছি। ওই প্রোগ্রামটি একদম রাত সাড়ে ১১টায় শেষ হয়েছে। তখন তো সবাই আমরা যে যার বাসায়। আমি তখন দেখলাম যে, ও (জামাল) অফিসে। তাই বললাম, এই জামাল তুমি এতক্ষণ অফিসে এত রাত হয়ে গেছে, চলে যাও। তুমি কি পাগল? তুমি এতক্ষণ অফিসে থাকো।’

আল সাদী/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]