বাসে না চড়েও ফি দিতে হচ্ছে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ঢাকা কলেজ
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনার কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্ধ রয়েছে ঢাকা কলেজও৷ এই সময়ের মাঝে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা সশরীরে ক্লাস না করলেও পরীক্ষা দিয়েছেন৷ আবার অনেকে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন তবে করোনার কারণে পরীক্ষা আটকে আছে। আর এই পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় তাদের পরিবহনসহ অন্য সব ফি দিতে হয়েছে।

এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় খুব দ্রুতই দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খোলার ঘোষণা আসতে পারে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেই যেসব শিক্ষার্থীদের অনলাইনে যে বর্ষের ক্লাস শেষ হয়েছে তাদেরও চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে। আর তখন তাদের পরিবহনসহ অন্য সব ফি দিতে হবে। এভাবে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কলেজের পরিবহন সেবা বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় পরিবহন ‘ফি’ আদায় করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর নিজ নিজ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের ফি জমা দিতে নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ এসব ফি জমা দিয়ে ফরম পূরণ করেই শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন৷ চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদের বেতনাদির চার্টে পরিবহন ফি বাবদ শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়৷ ঢাকা কলেজে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন৷ শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০০ টাকা হিসেবে বছরে পরিবহন খাত থেকে এক কোটি টাকার বেশি আদায় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, যেখানে করোনার কারণে দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ সেখানে পরিবহন সেবা না দিয়েও এভাবে ফি আদায় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক৷

jagonews24

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের থেকে গত ছয় বছরের ফি আদায় সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই চার বছর প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ২৫০ টাকা হারে পরিবহন ফি আদায় করা হতো৷ ২০২০ সালে তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়৷ এর কারণ হিসেবে কলেজ প্রশাসন বলছেন, বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ফি বাড়ানো হয়েছে৷

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৫ মার্চ শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট দানবীর আব্দুল কাদির মোল্লার পক্ষ থেকে ঢাকা কলেজকে চারটি বাস উপহার দেওয়া হয়৷ এর আগে ছিল চারটি৷ সব মিলিয়ে বর্তমানে ঢাকা কলেজের পরিবহন পুলে বাস রয়েছে আটটি৷ এছাড়া চারজন গাড়িচালক ও দুইজন সহকারী রয়েছেন৷ তবে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ ঢাকা কলেজে নতুন চারটি বাস আসে আর ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়৷ এরপর নতুন বাস ব্যবহৃত না হলেও একই বছরের ২১ ডিসেম্বর ঢাকা কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমান উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ.টি.এম মইনুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিবহন ফি ৫০০ টকা ধার্য করা হয়৷ এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার৷ পরবর্তীতে তার স্বাক্ষরিত বেশ কয়েকটি বিজ্ঞপ্তিতেও পরিবহন ফি ৫০০ টাকা হারেই ধার্য করা হয়েছে৷

ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষার আগে ফরম পূরণ করতে হলে এসব ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক৷ তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব ফি পরিশোধ করেছেন তারা৷ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, গত দেড় বছর ক্যাম্পাস বন্ধ৷ কলেজের বাসও চলেনি৷ পরিবহন সেবা না দিয়ে এভাবে ফি আদায় অযৌক্তিক৷ যাদের ফি নেওয়া হয়েছে তাদেরকে ফেরত অথবা আগামী বছরের ফি মওকুফ করা উচিত৷

jagonews24

ঢাকা কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রেজা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেখানে গাড়িতেই চড়েনি সেখানে এই ফি আদায় ন্যায়সঙ্গত নয়। আমাদের কেন এই টাকা দিতে হবে! এমনিতেই করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা ভালো না৷ এসব ফি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি৷

পরিবহন ফি বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমান উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.টি.এম. মইনুল হোসেন বলেন, মূলত পরিবহন পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারিভাবে কোনো সহায়তা আমরা পাই না। যেহেতু ঢাকা কলেজে নতুন করে আরও চারটি বাস যুক্ত হয়েছে তাই সেসব বাসের ড্রাইভার ও সহকারী নিয়োগ এবং পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিবহন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি তৎকালীন সময়ে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই করা হয়।

তবে পরিবহন সেবা না দিয়েই শিক্ষার্থীদের থেকে কোটি টাকা আদায় কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, জ্বালানি খরচ ছাড়াও আমাদের স্থায়ী কিছু খরচ আছে৷ গাড়ি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মবিল চেঞ্জ এগুলো করতে হয়৷ এজন্য ফি নেওয়া হচ্ছে৷ যেসব ফি নেওয়া হয়েছে সেগুলো মাফ করার সুযোগ নেই৷

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ফি কমানোর দাবি জানালে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো। তবে এটা আমাদের জন্য কঠিন হবে৷ আমরা ছাত্রাবাসের অনেক ফি মাফ করে দিয়েছি৷ আমার নজরে যেগুলো এসেছে আমি চেষ্টা করেছি তাদের ছাত্রাবাসের ফি মাফ করে দেওয়ার৷ যদিও আমাদের সমস্যা হবে, হোস্টেলগুলো চালানো কঠিন হয়ে যাবে কারণ আমাদের সরকারি কোনো কর্মচারী নেই, সব বেসরকারি কর্মচারি৷ কর্তৃপক্ষেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে৷

নাহিদ হাসান/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]