এক মাসের প্রস্তুতিতে শেষ হচ্ছে এক শিক্ষাবর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সশরীরে ক্লাস পেয়েছিলেন মাত্র কয়েকদিন। এরপর করোনার প্রকোপ শুরু হলে অনলাইনে ক্লাস করতে থাকেন। করোনায় এরই মধ্যে দেড় বছর পার হয়েছে। তবে ভর্তি হওয়া বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা তৈরি হয়নি ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান ফারসীর।

এদিকে হঠাৎ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হওয়ায় কিছুটা দিশেহারা তিনি। বলছিলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু। হাতে সময় পাচ্ছি মাত্র এক সপ্তাহ।

শুধু ভেটেরিনারি বিভাগ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের সেমিস্টার ফাইনাল ও বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হয়েছে।

রুটিন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হওয়ায় পর কোনো বিভাগে ১৫ দিন, কোনোটিতে এক মাস সময় পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের বাইরে ছিলেন; তবুও দ্রুত বর্ষ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগগুলো। পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম বর্ষ, চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সেশনজট কমানো, নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি এছাড়া মাস্টার্সে অধ্যয়নরতদের দ্রুত কর্মসংস্থানে যোগদানের সুযোগ তৈরি করতে গিয়ে পরীক্ষা দ্রুত নেওয়ার বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

যদিও প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টা কম তবুও কোনো রকম আপত্তি নেই শিক্ষার্থীদের। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ারাসুল ইসলাম সায়েম ও ফলিত রসায়ন বিভাগের সিরাজুল ইসলাম জানান, একই বর্ষে আর কতদিন থাকা যায়। দ্রুতই বর্ষ শেষ করতে চান তারা।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা বলছেন, দ্রুত শেষ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। পুরো একটি বছরে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত শিখতে না পারার এ শূন্য সহজে রিকভার করা সম্ভব হবে না।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা অনলাইনে ক্লাস নিয়েছি, তাতে দেখেছি ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীও উপস্থিত হয়নি। বিভিন্ন কারণে তারা ক্লাসগুলোতে অংশ নিতে পারেননি। সেখানে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা নেই এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন।

অন্যদিকে যেসব শিক্ষার্থী মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষে আছেন তাদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করা, মূলত তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে নিতে সার্টিফিকেট পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, তাতে বলা যায়, সত্যিকার অর্থেই একটি শিখন গ্যাপ থেকে যাচ্ছে, যা সহজে রিকভার করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান উল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরীক্ষা নেওয়ার সম্পূর্ণ বিষয়টি বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগের পরীক্ষাগুলো নিচ্ছে।

সালমান শাকিল/ইউএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]