হামলার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ চায় ঢাবি শিক্ষক সমিতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সাম্প্রদায়িক শক্তি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘সাম্পদায়িকতা রুখে দাঁড়াও, সম্প্রীতি বাংলাদেশ গড়ো’ স্লোগানে ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রহমত উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠায় এ ধরনের বিষয় দেখতে হয়। যা জাতির জন্য দুঃখজনক। একেকটি ঘটনার পর আমরা বলি এটাই যেন শেষ হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য এ ধরনের অপশক্তি বিভিন্ন সময় নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আমরা যে সম্প্রীতির বন্ধনে থাকি তা তারা বিনষ্ট করে।

তিনি বলেন, আমরা ঢাকাতেই প্রতিবাদ করি এটির একটি গুরত্ব আছে। এখন থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ করবো। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াবো। যারা আক্রান্ত্র হবে তাদের পাশে দাঁড়াবো। এটায় হলো মানবতাবাদী চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ। সে কাজ আমরা অব্যাহত রাখবো। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সংশ্লিষ্ট স্থানে। যেখানে সাম্প্রদায়িক শক্তি অপতৎপরতা চালাবে সেখানে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলোর ভূমিকা মূখ্য হওয়া উচিত।

du2.jpg

নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ বলেন, রংপুরে পীরগঞ্জে জেলেপল্লীতে একটি গ্রামকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটা কোন ধরনের বর্বরতা? এটা কি ৭১ সালকে হার মানায় না? সেদিন আমরা দেখেছি মা তার বাচ্চাকে নিয়ে ধানক্ষেতে লুকিয়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা যারা একাত্তর সালে হিন্দু-মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি সেখানে আজকেও কেন তাদের একাত্তরের মতো পালিয়ে থাকতে হবে?

তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত অমানবিক, জঘন্য এবং নৃশংস। এটার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আজ সব জায়গায় আওয়ামী লীগ যদি সক্রিয় থাকতো, একতাবদ্ধ থাকতো তাহলে আমার বিশ্বাস সেখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানোর মতো সাহস মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ করতে পারতেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় দেখলাম, মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে শিশু-কিশোরদের এসব হত্যাযজ্ঞে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, একই শহরে বেড়ে ওঠা একটা ছেলে আরেকটা সমবয়সী ছেলেকে মারতে আসছে। কি ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্যে থাকলে এ রকম কাজ করা সম্ভব সত্যিই চিন্তার বিষয়।

অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, আমাদের একটা সরকার ক্ষমতায় আছে। এটা রাজনৈতিক ইস্যু। কিন্তু সাংস্কৃতিক ইস্যু, রাজনৈতিক ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হয়। আমি দুঃখিত আমরা সে মুবিলাইজেশনটা দেখছি না।

সাদা দলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. লুৎফর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে। এতদিন পরেও আমরা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারিনি, এই ব্যর্থতার দায় যাদের ওপর বর্তায় তারা এসব এড়াতে পারে না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এসব ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দিয়ে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নীল দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান, বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছিরসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]