বিদ্যুতের বাণিজ্যিক বিল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন মেসের শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৮:১২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বাড়ায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে দুই শতাধিক মেস। এসব মেসে শিক্ষার্থীরা বসবাস করলেও বাণিজ্যিক রেটে দিতে হয় বিদ্যুৎ বিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এ বিষয়ে একাধিকবার হাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এতে বিপাকে পড়েন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। অবশেষে হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে এ সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, উপাচার্য শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসের বিদ্যুৎ বিল আবাসিকীকরণ কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। মেসের তথ্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে একটি ফরমে মেসগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ। শিগগির শিক্ষার্থীরা আবাসিক বিদ্যুৎ বিলের সুবিধা পাবে।

অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ আরও বলেন, মেস মালিককে দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবাসিক বিদ্যুতের জন্য আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরবরাহ করা তথ্য সংগ্রহের ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগে জমা দিতে হবে। এরপর সব মেসের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে তথ্য সরবরাহ করবে হাবিপ্রবি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেস মালিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ২০১২ সাল থেকে আকস্মিকভাবে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের মেসগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ করে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা মেস মালিকরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। বিভিন্ন সময় দফায় দফায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অবশেষে হাবিপ্রবি উপাচার্যের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।

বিদ্যুৎ বিলের সমস্যা সমাধান হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোরসালিন মিয়া বলেন, বর্তমান উপাচার্য যে শিক্ষার্থীবান্ধন, তা তিনি পুনরায় প্রমাণ করলেন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে জিম্মি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি হাবিপ্রবি সংলগ্ন মেস মালিকদের সঙ্গে বসে ‘কন্টাক্ট সিস্টেম’ বাতিলের উদ্যোগ নেয় তাহলে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না। আশা করি এ ব্যাপারে প্রশাসন শিগগির উদ্যোগ নেবে।

হাবিপ্রবি সংলগ্ন মেসগুলো বাণিজ্যিক মিটার হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করে আসছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পরপরই হাবিপ্রবির গণমাধ্যম সংগঠন হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূরীকরণের উদ্দেশে সর্বপ্রথম এ ব্যাপারে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংগঠনটি।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]