রোল-রেজিস্ট্রেনশনবিহীন খাতায় পরীক্ষা চান কুবি শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুবি
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১

চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। আইডি নম্বর থাকালে খুব সহজে জানা যায় কোন শিক্ষার্থীর খাতা কোনটি। ফলাফলের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকায় খাতা দেখার সময় পক্ষপাতিত্ব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঝেমধ্যে তাদের সামান্য ভুলের প্রভাব পড়ে পরীক্ষা খাতা মূল্যায়নে। এমনকি শিক্ষকের পছন্দের বাইরে গেলে, মতের মিল না হলে বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে তারা খাতায় আশানুরূপ নম্বর পান না। অনেক সময় কম মেধাবী শিক্ষার্থী বেশি নম্বর পেয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীকে তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর খাতার ওপরে লিখতে হয়। উত্তরপত্রের শুরুতে নির্দেশনাবলী অনুযায়ী কভার পাতায় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সুস্পষ্টভাবে লিখতে হয়।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের কিছু শিক্ষক মুখ দেখে নম্বর দেন। আমরা সবসময় খারাপ রেজাল্ট কিভাবে করি? শিক্ষকদের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে আমরা নিজেদের এগিয়ে নিতে পারি না। কারণ প্রথম এক বা দুই সেমিস্টার রেজাল্ট দেখে পরবর্তী ফলাফল নির্ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চন্দ্র জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে অভিযোগটি এসেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণীয় নয়। তাছাড়া চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতাগুলো বাইরের শিক্ষক দিয়েও দেখানো হয়। তাহলে নম্বর কম দেওয়ার প্রশ্নেই আসে না।’

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে—এটাতো স্বাভাবিক। তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ আসেনি। কেউ যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করে তাহলে আমরা বিবেচনা করে দেখবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে। এ পদ্ধতি আমরা এড়িয়ে চলতে পারি না।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক তার নৈতিকতার জায়গা থেকে কোনোভাবেই স্বজনপ্রীতি করতে পারেন না। তবে কোনো শিক্ষার্থী এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবুও বর্তমান যে ব্যবস্থা আছে সেটা পরিবর্তন করা যাবে না।

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]