এডিস মশা নেই, তবু জাবিতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

মশা বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তথ্যমতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে জানো গেছে, জাবিতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসছেন রোগীরা। সপ্তাহে প্রায় ৩০ জনের মতো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। তবে কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত গুরুতর অবস্থায় যায়নি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্যাথলজি বিভাগে কর্মরতরা বলছেন, ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে আসতে শুরু করেন রোগীরা। চলতি মাসের প্রতিদিনই তিন থেকে চারজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।

মশা গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর বাহক মশা রয়েছে। সাভারের বিভিন্ন এলাকাসহ ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী আমবাগান, ইসলামনগর, গেরুয়া এলাকায় এডিস মশা রয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুর বিস্তার হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ গবেষকের মতে, শিক্ষার্থীরা নানা কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে যান। টিউশনি করতে সাভার এলাকায় অনেক বাসায় তাদের যেতে হয়। সেখান থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগ শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, সপ্তাহে দুদিন প্যাথলজি সেন্টার বন্ধ থাকে। আবার যেদিন খোলা থাকে সেদিন বিকেল ৪টায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক সময় সময়মতো রিপোর্ট পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, আগের তুলনায় এ মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় প্যাথলজি বিভাগের কাজের সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]