পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বঙ্গবন্ধু হলে থাকা অস্থায়ী ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় রোববার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের কাচে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করলেও তার নাম-পরিচয় জানায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকেন। ফলে বঙ্গবন্ধু হল পকেট গেট দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয় তাকে। ওই হলে একটি পুলিশ ক্যাম্প আছে। প্রতিদিনের মতো রোববার ক্যাম্পাসে আসছিলেন ওই ছাত্রী। এ সময় ক্যাম্পের সামনে নিরাপত্তা পোশাকধারী এক ব্যক্তি তার দিকে তাকিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলতে থাকেন।

একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার শুরু করলে ওই নিরাপত্তা পোশাকধারী ব্যক্তি ক্যাম্পের ভেতরে চলে যান।

দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রী, অভিযুক্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান কর্মকর্তা রোজদার আলী রূপম ও পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দীনকে নিয়ে বসেন প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হল পকেট গেট দিয়ে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নিরাপত্তা পোশাকধারী এক লোক আমার দিকে তাকিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলতে থাকেন। এ সময় আমি চিৎকার দিয়ে উঠলে তিনি পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে চলে যান। পরে আমি প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই। প্রক্টর আমাকে তার অফিসে ডাকেন। সেখানে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আমার কাছে ক্ষমা চান। অন্য মেয়েদের সঙ্গে যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এ শর্তে আমি তাকে ক্ষমা করেছি।

পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্য ও ওই ছাত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ঘটনার পরে প্রক্টর আমাকে ও সেই পুলিশ সদস্যকে ডেকেছিলেন। আমরা প্রক্টর অফিসে গিয়েছিলাম। সেখান অভিযোগকারী ছাত্রীও ছিল। আসলে সেই পুলিশ সদস্য ফোনে তার স্ত্রীর সঙ্গে সাংসারিক ঝামেলা নিয়ে কথা বলছিলেন। ওই ছাত্রী হয়তো ভেবেছিল তার দিকে ইঙ্গিত করে কথা বলেছে, তাই সে খারাপভাবে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছি। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বঙ্গবন্ধু হল পুলিশ ক্যাম্পের ওসিকে নিয়ে সোমবার আবার বসবো।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]