স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আরও সময় চায় ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১
ইউজিসি ভবন

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ ও হস্তান্তরে আরও সময় চেয়েছে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শোকজের জবাবে তারা এ দাবি জানায়।

এর আগে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ২৫ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ করে ইউজিসি। ভাড়া বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি-ক্লাস করানোর কারণে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, শোকজ দেওয়া ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিকে তিনদিন আবার কোনোটিকে পাঁচদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। শোকজে যেসব প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে আগের ঠিকানায় (অস্থায়ী) নানা নামে ক্যাম্পাস ধরে রেখেছে, সেগুলোর বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হলেও যারা স্থায়ী সমাধানের জন্য আবেদন করেনি এমন কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয়।

ইউজিসি থেকে জানানো হয়, শোকজ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অধিকাংশ জবাব পাঠিয়েছে। করোনার কারণে গত দুই বছর কাজ স্থগিত ছিল বলে জানিয়েছে তারা। অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছে। এ কারণে তারা আরও সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হলেও স্থায়ী সনদের জন্য আবেদন করেনি তারাও নতুন করে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ১২ বছর পূর্ণ হলেও যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি তাদের ধাপে ধাপে শোকজ দেওয়া হয়। অধিকাংশই শোকজের জবাব দিয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর আরও সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসময় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে তারা নতুন করে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সময় বাড়ানো হবে কি না এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, যেহেতু বিষয়টি মানবিক, তাই সেটি বিবেচনা করে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরে স্থায়ী সনদের জন্য আরও কিছুদিন সময় বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সময় বাড়ানো হতে বলেও জানান তিনি।

তথ্যমতে দেশে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৯৯টি। ১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ শুরু হয়। ২০১০ সালের আগে ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এর মধ্যে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতে মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে সরকার বন্ধ করে দেয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাকি ২৫ প্রতিষ্ঠানের কোনোটি আংশিক ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান জমি কিনেছে। আবার কিছু কোনো ধরনেরই পদক্ষেপ নেয়নি।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ২০১০ সালের পর থেকে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফা আল্টিমেটাম দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তখন বলা হয়েছিল, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এ নির্দেশ পালন করতে পারবে না তাদের ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকার কথা ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এরমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন আসে। বারবার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তা প্রতিপালনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এতদিন মন্ত্রণালয় রহস্যজনক কারণে ‘নিশ্চুপ’ ছিল। এমনকি এ সংক্রান্ত মিটিং পর্যন্ত হয়নি।

যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ ও অনুষদ খোলার অনুমোদন বন্ধ এবং সমাবর্তন আয়োজনের অনুমতি স্থগিত থাকার কথা। সেই অবস্থান থেকেও সরে আসা হয়েছে। অবশেষে চার বছরে এ প্রথম শোকজের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

এমএইচএম/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]