কুয়েটের আরও দুই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

প্রফেসর ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুটি হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে আরও দুই শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। উপাচার্যের কাছে পদত্যাগ পত্রও জমা দিয়েছেন তারা।

অপর চার হলের প্রভোস্ট ও সাত হলের সহকারী প্রভোস্টরা পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

প্রফেসর ড. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর শিক্ষকরা অনেকেই এখন সমস্যা এড়াতে প্রভোস্টের পদত্যাগ করতে চাইছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রভোস্ট সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগ করা প্রভোস্টরা হলেন- কুয়েটের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. কল্যাণ কুমার হালদার ও ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

জানা গেছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর কল্যাণ কুমার হালদার ও ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, হলের পরিবেশ সুষ্ঠু না হওয়ায় ড. সেলিমের মৃত্যুর পর থেকে তারা মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি জীবনের শঙ্কাও করছেন। তাছাড়া তাদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনার পর থেকে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন।

কুয়েটের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর কল্যাণ কুমার হালদার বলেন, ড. সেলিম আমার বন্ধু ছিলেন। তার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার মৃত্যুর পরদিন আমি প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। এরপর আরও একজন প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন।

কুয়েটের রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর এবিএম মামুন জামাল বলেন, শিক্ষক সেলিম হোসেন সুস্থ ছিলেন। তার চলে যাওয়া কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার মৃত্যুতে আমরা সকলেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার মৃত্যুর পর প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে সবাই শিক্ষক সমিতির পাঁচ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে দুজন প্রভোস্ট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যরা সাতদিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নয়জন ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ঈসমাঈল সাইফুল্যাহ বলেন, বুধবার (১ ডিসেম্বর) প্রভোস্টদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। যা রেজুলেশন আকারে তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

খানজাহান আলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষক ড. সেলিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তুলতে আবেদন করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিল পুলিশ। মরদেহ যেহেতু কুষ্টিয়াতে দাফন হয়েছে সে কারণে আবেদনটি কুষ্টিয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আলমগীর হান্নান/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]