শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভোগান্তি রাবি শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

জানা গেছে, অধিকাংশ বিভাগে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ কম। ফলে গাদাগাদি করে ক্লাসে বসে শিক্ষার্থীরা। অন্য বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ধার নিয়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে, অপরদিকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছেন না তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, বাংলা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগসহ আরও কয়েকটি বিভাগে পাঁচ থেকে ছয় ব্যাচের বিপরীতে দুই থেকে তিনটা শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১২০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি রুম বরাদ্দ। ফলে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঘেঁষে বসতে হয়।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ সজল বলেন, প্রত্যেকদিন ক্লাস করতে গিয়ে রুম না পেয়ে শিক্ষকদের চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দুইটা শ্রেণিকক্ষ আছে, তাতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি বসে। করোনার এই সময়ে এভাবে ক্লাস করতে গিয়ে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে অন্যদিকে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নেহাল বলেন, শ্রেণিকক্ষ দুটো। এক রুমে একসঙ্গে ১১০ জন ক্লাস করি, যার কারণে এক বেঞ্চে পাঁচজন করে বসতে হয়। রুম সংকট থাকায় ক্লাসও অনেক কম হয়। অনেক সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে এবং সকালে একটি ক্লাস হলে বিকালে অন্য ক্লাস নেওয়া হয়।

jagonews24

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড মুহাম্মাদ হাসান ইমাম বলেন, ডিপার্টমেন্ট শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ শেয়ার করে ক্লাস করাচ্ছি। প্রশাসনের উচিত শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি করা, প্রয়োজন হলে একাডেমিক ভবন বৃদ্ধিও কথা বলেন তিনি।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ফায়েকুজ্জামান বলেন, ডিপার্টমেন্টে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। ১০০ শিক্ষার্থী ধরবে এমন বড় রুম দুইটা। তাই প্রায় সময় চেম্বারেও ক্লাস নিতে হয়।

রুম বরাদ্দের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষ সংকটই নয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছরেও সব শিক্ষকদের বসার চেম্বারও করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস-পরীক্ষা চালাতে চাই। এই মুহূর্তে কোনো শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। ২০ তলা ভবন নিমার্ণের কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে সমস্যার সমাধান হবে। ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা বের করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করতে হবে। বিভিন্ন বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]