শাবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবি রাবি অধ্যাপকের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
জোহা চত্বরে নীরব দাঁড়িয়ে থাকেন রাবির অধ্যাপক ড. ফরিদ খান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় দুই প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ খান।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জোহা চত্বরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে এ প্রতিবাদ জানান তিনি। এ সময় শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদেরও পদত্যাগ দাবি জানান রাবির এ অধ্যাপক। এ নিয়ে পরে তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন।

অধ্যাপক ফরিদ খান বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে আমি ভীষণ লজ্জিত ও ব্যথিত। একজন শিক্ষকের কারণে আজ আমাদের সন্তানদের জীবন সংকটাপন্ন। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে দাবি জীবনকে হার মানায় সে দাবি কখনোই অযৌক্তিক হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে শিক্ষাঙ্গনে কোনো পদই বড়ো হতে পারে না। তাই বিবেকের তাড়নায় আবার দাঁড়ালাম।

তিনি আরও বলেন, এই নীরবতার ভাষা লক্ষ শিক্ষকের লক্ষ অভিভাবকের ক্ষোভের ভাষা, বিবেকের ভাষা। একজন অভিভাবক যখন পুলিশ ডেকে এনে সন্তানদের শায়েস্তা করেন তখন তিনি আর অভিভাবক থাকেন না হয়ে যান একজন শাসক, নির্মম শাসক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শাসক চাই না, চাই অভিভাবক।

শাবিপ্রবির উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে রাবির এ অধ্যাপক বলেন, ‘অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। শিক্ষক সমাজকে জাতির কাছে কলঙ্কিত করবেন না, ছোট করবেন না। আপনার শিক্ষকতা জীবনের অর্জনকে হেয় হতে দিবেন না। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে আপনার প্রশংসিত ভূমিকাকে খাটো করবেন না। আবারো বলছি পদত্যাগ করুন। আমাদের সন্তানদের বাঁচান। সন্তানদের কাছে হার মানা কোনো লজ্জার নয় বরং আনন্দের। আমাদের সন্তানরা আজ প্রতিবাদ করতে শিখেছে।’

jagonews24

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে আন্দোলনে।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন। অনশনে অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া বাকিদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]