শাবিপ্রবিতে অনশনের ১৪০ ঘণ্টা পার, হাসপাতালে ১৯ শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৩:২১ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ১৪০ ঘণ্টা পার করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯ জন। বাকি ৯ জন অনশনরত অবস্থায় উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করছেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে শুরু হওয়া আমরণ অনশন কর্মসূচির পর থেকে এরমধ্যে অনশনস্থল থেকে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

jagonews24

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘অনশনরত শিক্ষার্থীদের যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কিছুটা সুস্থ হলে তারা ছাড়পত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসছেন। অসুস্থতা বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারও প্রেশার অনেক নেমে গেছে, কারো সুগার লো। সবারই কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারা উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া অনশন ভাঙতে নারাজ।’

১৩ আগস্ট থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে আন্দোলনে।

jagonews24

পরে রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর টানা তিনদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী। রোববার আরও পাঁচ শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেওয়ায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ২৮জনে। চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল অনশন ভেঙে তিন দফা আলোচনার প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি হয়নি শিক্ষার্থীরা।

মোয়াজ্জেম আফরান/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]