শাবিপ্রবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
অনশনরত শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি মেডিকেল টিম। তবে সেই টিম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

করোনার উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও নমুনা দিতে অনাগ্রহ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই দলটি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) মেডিকেল টিমের সদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. নাজমুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনা ঝুঁকি বাড়ায় ২৪ জানুয়ারি মধ্য রাতে আমাদের মেডিকেল টিম প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কারণ অনশনকারীদের অনেকেরই করোনার উপসর্গ থাকার পরও তারা টেস্ট করাতে রাজি হচ্ছেন না। স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না। এতে আমরা ঝুঁকিতে পড়ছি। আমাদের অনেককেই আবার হাসপাতালে ফিরতে হয়। ফলে অন্যরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন।

নাজমুল হাসান আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমরা যেসব অনশনকারীকে হাসপাতালে পাঠাই তারা ছাড়পত্র না নিয়েই আবার ক্যাম্পাসে চলে যান। ফলে তাদের জীবন যেমন সংকটে পড়ছে, তেমনি আমরাও সমস্যায় পড়ছি। তাদের সেবা দিতে গিয়ে আমাদের একজনের করোনা হয়েছে। আরও কয়েকজনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এজন্য আপাতত মেডিকেল টিম প্রত্যাহার করেছি।

২১ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল টিম গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধানে এই টিমটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে এগিয়ে আসে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আর কারও কাছ থেকে কোনো চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন না।

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে।

এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও চার শিক্ষার্থী। এনিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মোয়াজ্জেম আফরান/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]