শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র অধিকারের কর্মসূচি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মসূটি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। শাবিপ্রবির উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত আছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী।

সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জন অসুস্থ কিন্তু তারপরও সরকারের টনক নড়ছে না। আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এখানে অবস্থান করছি যাতে তারা নিজেদের একা মনে না করেন। আমরা লক্ষ্য করছি, তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে এ আন্দোলনকে সরকার নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অর্থ সংগ্রহের জন্য যে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছিল সেটাও সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবাও বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে ছাত্ররা এই ভিসিকে চাচ্ছে না সেখানে কেন জোর করে তিনি এই পদে থাকতে চাচ্ছেন সেটাই আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিয়েও সমাধান করতে পারছেন না। তিনি বারবার শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আসার আহ্বান করছেন। সমস্যা সমাধান না করে উল্টো তিনি বলছেন, ছাত্ররাই নাকি শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছেন।’

ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি নিয়ে বিন ইয়ামিন বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়ে যাই যখন শিক্ষক সমিতি থেকে বলা হয় যে, এই আন্দোলন থেকে তৃতীয় পক্ষ ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে। অথচ এই শিক্ষকদের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হওয়ার পরপরই তাদের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবাদ করা এবং এই সমস্যার সমাধান করা।’

অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন বলেন, ‘আমরা আজকে এই অবস্থান কর্মসূচি করতে চাইনি। কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করে আসছে তাতে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকম ইতিবাচক বার্তা না পাওয়াতে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এখানে বসেছি। আমরা মনে করি যে, এই ভিসির অপসারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে সে হামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। আমাদের একটাই দাবি, তা হলো এই ভিসির অপসারণ। আমরা এটাও বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের যে বিভিন্ন সাপোর্ট দেওয়া হতো, তাদের জন্য যে মেডিকেল টিম ছিল তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধরনের বিপদ ঘটে তার দায় কিন্তু প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বান করবো যে, অতি দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই স্বৈরাচার ভিসির অপসারণ করুন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন।’

আল সাদী ভূঁইয়া/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]