আটক শাবিপ্রবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:৪৪ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
আটক শাবিপ্রবির সাবেক দুই শিক্ষার্থী

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অর্থ যোগান ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আটকের পর মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাদের সিলেটের জালালাবাদ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

বিকেল ৫টার দিকে তাদের সিলেট নিয়ে আসে সিআইডির একটি দল। এর আগে সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটক করে সিআইডি।  

আটকরা হলেন-বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের মুইন উদ্দিনের ছেলে রেজা নুর মঈন (৩১), টাঙ্গাইলের সখিপুরের দারিপাকা গ্রামের মতিয়ার রহমান খানের ছেলে হাবিবুর রহমান খান (২৬), খুলনার সোনাডাঙ্গার মিজানুর রহমানের ছেলে এএফএম নাজমুস সাকিব (৩২), কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নিয়ামতপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৭) ও ঢাকা মিরপুরের মাজার রোডের জব্বার হাউসিং বি-ব্লকের ১৭/৩ বাসার এ কে এম মোশাররফের ছেলে এ কে এম মারুফ হোসেন (২৮)।

এদের মধ্যে হাবিবুর শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে ২০১২ সালে পাস করেছেন। একই বছর আর্কিটেকচার বিভাগ থেকে পাস করেছেন রেজা নুর মঈন ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় আটক পাঁচজন এখন জালালাবাদ থানায় আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিকেল ৫টার দিকে ওই পাঁচজনকে সিআইডি আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এসএমপি কমিশনার আরও বলেন, ওই পাঁচজনের কেউই সিলেটের বাসিন্দা নন। তবে তারা সবাই শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে।

এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। ২৩ জানুয়ারি বিকেলে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন আরও চার শিক্ষার্থী। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ছামির মাহমুদ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]