‘২৭ জীবনের চেয়ে উপাচার্যের চেয়ার বেশি গুরুত্বপূর্ণ’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২২
শপথ পাঠ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

‘আমাদের ২৭টি জীবনের চেয়ে উপাচার্যের চেয়ার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ওপর হামলা হলো, আবার আমাদের নামে মামলা হলো। মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাই আমাদের অন্যায় হয়েছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোলচত্বরে শপথ পাঠের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র রাজ বলেন, ‘আমাদের খাবার ও মেডিকেল খরচের জন্য সাবেক সাস্টিয়ানরা সাহায্য করে আসছিলেন। কিন্তু গতকাল থেকে তাদের সবার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করায় পাঁচ ভাইকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

‘১৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে আমাদের অনশনের। আমরা দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে অনশনে বসেছিলাম। আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে স্যালাইনের জন্য সুঁই দিতে শিরা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এত ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও ৮দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি কোন কিছু জানাতে পারলেন না। আমরা আমাদের মেরুদণ্ড ভাঙতে দিবো না’ যোগ করেন তিনি।

শাবিপ্রবি উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে অর্থ যোগান ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আটকের পর মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাদের সিলেটের জালালাবাদ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আটকরা হলেন-বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের মুইন উদ্দিনের ছেলে রেজা নুর মঈন (৩১), টাঙ্গাইলের সখিপুরের দারিপাকা গ্রামের মতিয়ার রহমান খানের ছেলে হাবিবুর রহমান খান (২৬), খুলনার সোনাডাঙ্গার মিজানুর রহমানের ছেলে এএফএম নাজমুস সাকিব (৩২), কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নিয়ামতপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৭) ও ঢাকা মিরপুরের মাজার রোডের জব্বার হাউসিং বি-ব্লকের ১৭/৩ বাসার এ কে এম মোশাররফের ছেলে এ কে এম মারুফ হোসেন (২৮)।

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে।

এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও চার শিক্ষার্থী। এনিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এসজে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]