ফুটবলে উপাচার্যের নাম লিখে খেলা, ‘বাড়াবাড়ি’ বলছেন অনেকে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
ফুটবলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নাম লিখে প্রীতি ম্যাচ খেলেন শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা ১২ দিন উত্তাল থাকার পর ধীরে ধীরে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। তবে অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি শিক্ষার্থীরা। শুধু আন্দোলনের ধরন পরিবর্তন করেছেন তারা।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) উপাচার্যবিরোধী প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফুটবলের গায়ে উপাচার্যের নাম লিখে ম্যাচ খেলেন তারা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এ ধরনের আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

jagonews24

শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনকে ‘হঠকারী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘ফুটবলে ফরিদ লিখে লাথি দেওয়াটা মানা গেলো না। সীমা অতিক্রম করার একটা সীমাও আছে। এটা বস্তির কোনো ঝগড়া নয়। একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দ্বন্দ্ব। সারাদেশের মানুষ যে অহিংস আন্দোলনে সহমর্মিতা দেখিয়েছে, এই একটি হঠকারী কাজ সবাইকে এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে যে, ছেলেমেয়েগুলোতো আসলেই বেয়াদব।’

jagonews24

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদের মতে, এটা প্রতিবাদের কোনো ভাষা হতে পারে না। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি কর্মসূচি, তা ভাবতেও নিজের প্রতি ঘৃণা লাগছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে। আশা করবো এমন কিছু আর দেখতে পাবো না ভবিষ্যতে।’

সাধারণ জনগণ যারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন করেছিলেন বিষয়টি তাদের মনেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।

jagonews24

তিনি লিখেছেন, ‘আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ছিল। সেজন্য অনেক জায়গা থেকে চাপ আসছে কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। ফরিদ উদ্দিনের (উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ) হীন কার্যকলাপের জন্য আমরাও ক্ষুব্ধ ছিলাম। তাই এইভাবে!! সাধারণ পাবলিক যারা এই আন্দোলনে সমর্থন ছিল তাদের মনেও এই বিষয়টি নেগেটিভভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ সাধারণ পাবলিকের মনে দাগ কাটে এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকুন। সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে অনুরোধ রইলো।’

jagonews24

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় ৩০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

jagonews24

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে এতদিন আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) টানা সাতদিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মোয়াজ্জেম আফরান/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]