সুনসান শাবিপ্রবি, আলপনায় ‘মৃত্যু অথবা মুক্তি’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৫:০৩ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

মুহুর্মুহু স্লোগান আর ক্ষোভে টানা ১২ দিনের উত্তাল ক্যাম্পাসে এখন সুনসান নীরবতা। তবে দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি। শুধু পরিবর্তন এসেছে আন্দোলনের ধরনে। দাবি আদায়ে চলছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন।

এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী আলপনা আঁকা শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘মৃত্যু অথবা মুক্তি’ শিরোনামে আঁকার মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে টানা ১৬৩ ঘণ্টা জীবন বাজি রেখে অনশন করেছিলেন ২৮ শিক্ষার্থী। তাদের উৎসর্গ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এক কিলো রোডে আলপনাটি এঁকেছেন অন্য সহযোদ্ধারা। গত বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর আলপনা আঁকা শুরু হয়ে শেষ হয় মধ্যরাতে।

আলপনায় ‘মৃত্যু অথবা মুক্তি’ লেখার ওপর এক‌টি স্ট্যান্ডে স্যালাইন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে লেখাটার নিচে হাশট্যাগে ইংরেজিতে লেখা ‘সেভ সাস্ট’ এবং ‘স্ট্যান্ড উইথ স্টাট’।

আলপনা আঁকায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, এটা আমাদের অহিংস আন্দোলনের অংশ। উপাচার্যের পদত্যাগ দা‌বিতে ২৮ শিক্ষার্থী জীবন বা‌জি রেখে অনশনে নেমে‌ছিলেন। এখানে তাদের মনোবল এবং দৃঢ় প্রত্যয় বুঝানো হয়েছে । তাদের সম্মান জানাতেই এ আলপনা।

গত ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি যুক্ত হয় শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে।

এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে এতদিন আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) টানা সাতদিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা৷

মোয়াজ্জেম আফরান/শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]