দেড় বছরেও খাতা পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল পাননি ৩ খুবি শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক খুবি
প্রকাশিত: ০১:৪৫ পিএম, ১৪ মে ২০২২

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের স্নাতকোত্তরের খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন থেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।

তারা জানান, গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের স্নাতকোত্তর ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় ২২ ফেব্রুয়ারি তারা উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের আবেদন করেন। কিন্তু এক বছরেরও অধিক সময় পার হয়ে গেলেও তারা পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল পাননি।

ভুক্তভোগী খান আতিদুল ইসলাম বলেন, ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্নাতকোত্তরের থিসিসসহ মোট ৩টি কোর্স পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করি। পুনর্মূল্যায়ণের ফলাফল যেখানে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চলে আসে সেখানে প্রায় দেড় বছর হয়ে গেলেও অজ্ঞাত ও ভৌতিক কারণে আমাদের তিনজনের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। আমরা বহুবার ডিসিপ্লিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গিয়েছি। তারা বার বার আশ্বাস দিয়েও ফলাফল প্রকাশ করেনি।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অন্যায় ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই আমার ফলাফল আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাকে এই বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ অবহিত করে পুনর্মূল্যায়ণকৃত ফলাফল প্রদান করতে হবে। তাছাড়া এতদিন ফলাফল না পাওয়ায় আমি যে সার্বিক হয়রানি ও মানসিক হেনস্তার শিকার হয়েছি তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী আজবীয়া খান এশা বলেন, গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়া স্নাতোকোত্তরের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় আমি থিসিসসহ ৪টি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ণের জন্য আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। দেড় বছর ফলাফল আটকে রাখায় আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। চাকরি পাওয়ার বয়স থেকে অলরেডি দেড় বছর চলে গিয়েছে। আমরা সবাই এখন মানসিক এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত।

তিনি আরও বলেন, আমার মতোই আমার সহপাঠী খান আতিদুল ইসলাম থিসিসসহ ৩টা বিষয়ে এবং মিতু রহমান থিসিসসহ ২টা বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ণের জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত ফলাফল পায়নি। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিসিপ্লিনের কতিপয় শিক্ষকের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং স্বৈরাচারী চিন্তাভাবনার শিকার হয়েছি আমরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) শেখ শারাফত আলী জাগো নিউজকে বলেন, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আবেদন করেছেন। আমরা সেই আবেদন অনুযায়ী উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণের জন্য পাঠিয়েছিলাম। করোনা পরিস্থিতির কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ হয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পুনর্মূল্যায়ণ শেষে আমরা উত্তরপত্র ডিসিপ্লিনে পাঠিয়েছি। কিন্তু পাঠানোর বেশ কিছুদিন পরে আবার ডিসিপ্লিন থেকে জানানো হয়েছে একটি উত্তরপত্রের ভেতরে তারা নম্বর পাননি।

এ বিষয়ে বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. রুবেল আনসার বলেন, তাদের উত্তরপত্র যথাসময়েই পুনর্মূল্যায়ণের জন্য পাঠানো হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ণ হয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পুনর্মূল্যায়ণের একটি উত্তরপত্রের নম্বর না আসার কারণে ফলাফল তৈরি করা যায়নি। ওই খাতাটি মূল্যায়ন হয়ে এলেই যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আশা করছি এই মাসের মধ্যেই ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে।

বার বার আশ্বাস দিয়েও ফলাফল প্রকাশে দেরি করার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সর্বাংশে সত্য নয়।

এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]