ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাবি
প্রকাশিত: ১১:১৮ পিএম, ১৫ মে ২০২২
ঢাবির বিজয় একাত্তর হল। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই হলের ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৪ মে) রাতে হলের টিভি রুমে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীর নাম সালাহউদ্দিন তারেক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারেক বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুসের অনুসারী।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী সিয়াম দেওয়ান ফ্রেন্স ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড কালচার বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

সিয়াম দেওয়ানের ভাষ্য, ‘গত শুক্রবার ( ১৩ মে) মধুর ক্যান্টিনে সাদ্দাম (ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক) ভাইয়ের প্রোগ্রাম ছিল। আমি অসুস্থ থাকায় ওই প্রোগ্রামে যেতে পারিনি। তারেক (অভিযুক্ত) ভাইয়ের থেকেই ছুটি নিয়েছিলাম। ভাইকে বলেছিলাম যে আমি অসুস্থ, প্রোগ্রামে যেতে পারবো না। তখন তিনি আমাকে ছুটি দেন। পরে রাতে আমাকে গেস্টরুমে ডাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার গেস্টরুমে যেতে একটু দেরি হওয়ায় ভাই আমাকে মুরগি হতে বলেন। আমি ইতস্তত বোধ করায় তিনি পায়ের জুতা খুলে আমার গায়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ওনিও শিক্ষার্থী। সুতরাং আমাকে এরকম অত্যাচার করার অধিকার তো ওনার নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজেই পরবর্তীতে এটা নিয়ে সংবাদ না করার অনুরোধ জানান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্রলীগকর্মী বলেন, তারেক গেস্টরুমে খুবই উগ্র আচরণ করেন। তিনি প্রায়ই জুনিয়রদের গায়ে হাত তোলেন। নিষেধ করলেও তিনি বাধা মানেন না। সিয়ামকেও নির্যাতন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি কাউকে না বলতে চাপ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি বলেন, ‘আমরা শাসন করি, আমরাই আদর করি। ও (সিয়াম) আমাদের দূরের কেউ না। তাকে মারধর করা হয়নি।’

জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস বলেন, ‘আমি অভিযুক্ত এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি। ভুক্তভোগী নিজেই বলেছে, তার সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের হলে কোনো নির্যাতনকারীকে ছাড় দেওয়া হয় না।’

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এখন ঢাকার বাইরে আছি। হলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।’

আল সাদী ভূঁইয়া/এমএএইচ/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]