টানা ৪ বার ব্যর্থ, পঞ্চমবার সহকারী জজ হলেন ইবির সোহেল রানা

সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

সহকারী জজ পদে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৩তম ব্যাচের ছাত্র সোহেল রানা। টানা চতুর্থবার ব্যর্থ হয়ে পঞ্চমবারের বেলায় সফল হয়েছেন তিনি।

গত ২১ এপ্রিল ১৪তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সোহেল রানা কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাদুয়াদামারহাট গ্রামের আবদুস সালাম ও শেফালী বেগমের সন্তান। জাগো নিউজে তার সফলতার পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন রুমি নোমান-

জাগো নিউজ: জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পেছনে কার অনুপ্রেরণা বেশি?

সোহেল রানা: এক্ষেত্রে অনেকের নামই আসবে তবে সর্বপ্রথম আমার বাবা। আমি যখন কলেজে ভর্তি হই তখন তিনি আমাকে বলতেন যুক্তিবিদ্যা নিতে। কারণ উনি জানতেন যে যুক্তিবিদ্যা পড়লে জজ হওয়া যায়। যদিও তার এই বিষয়টা আমি তখন ওইভাবে অনুভব করতে পারিনি। কিন্তু পরে যখন আমাকে আইনে ভর্তি হতে বাধ্য করলেন তখন বুঝতে পেরেছি যে কেন তিনি এটা বলতেন। তার এই চাওয়াটাই আমার কাছে অনুপ্রেরণা।

জাগো নিউজ: জজ হওয়ার স্বপ্নটা কবে থেকে?

সোহেল রানা: আসলে শিক্ষাজীবনে আমি প্রচুর পড়তাম। আমার কৃষক বাবা তার ফসলের জমি বিক্রি করে আমাকে পড়িয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম ছিলাম। তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত একাডেমিক লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। চতুর্থ বর্ষে এসে মূলত বাবার স্বপ্ন পূরণের দিকে নজর দেই।

জাগো নিউজ: যারা ভবিষ্যতে জজ হতে চান তাদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?

সোহেল রানা: সৃষ্টিকর্তার কাছে মন থেকে চাইতে হবে। নিজেকে একজন বিচারক ভেবে পড়ালেখা করতে হবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। আইন যেহেতু মনে রাখার বিষয় সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বারবার পড়তে হবে। যে বিষয়ে দুর্বলতা আছে যতদ্রুত সম্ভব তা কাটিয়ে উঠতে হবে। লিখিততে বেশি নম্বর নির্ভর করে জেনারেল অংশের ওপর। তাই ৪০০ নম্বরের ওপর জোর দিতে হবে।

জাগো নিউজ: সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর অনুভূতি কী?

সোহেল রানা: অনুভূতি বলতে আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি এই কারণে যে আমি আমার বাবার স্বপ্নকে পূরণ করতে পেরেছি।

জাগো নিউজ: কতবারের চেষ্টায় জজ হলেন?

সোহেল রানা: আমি দশম জুডিশিয়ারিতে প্রথম পরীক্ষা দিই। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইনি। এরপর আর্থিক-অনটনে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করি। ব্যস্ততার ফলে পরবর্তী দুবার প্রিলিতেই বিফল হই। পরে চাকরি ছেড়ে আবারও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করি। ১৩তম জুডিশিয়ারিতে ভাইভা দিয়েও বিফল হই। বেশ হতাশ ছিলাম তখন। ১৪তম জুডিশিয়ারিতে সফলতার মুখ দেখেছি।

জাগো নিউজ: কী কী বাধা ছিল?

সোহেল রানা: এই প্রশ্নের উত্তর আমি একটু অন্যভাবে দিতে চাই। আসলে জীবনে বাধা বলে কিছু নেই। যদিও নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত ছিলাম আমি। অনেক সময় আশপাশের মানুষগুলো হতাশ হয়ে যায় কিন্তু সফল হওয়া মানেই কিন্তু বাধা অতিক্রম করা। তবে এই বাধাগুলো অতিক্রম করতে আল্লাহ তায়ালা কিছু মানুষকে আমার পাশে রেখেছিলেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

বিশেষ করে হক ল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নুরুল হক, যুগ্ম জেলা জজ মোতাছিম বিল্লাহ স্যার আইনকে অনেক সহজ করে দিয়েছেন। আমার স্ত্রী মেহেনাজ আক্তার এবং সর্বশেষ যার নাম বলতে চাই স্ত্রীর বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ, যার সহোযোগিতা ছাড়া আমি হয়তো এই পথ পাড়ি দিতে পারতাম না।

জাগো নিউজ: জজ হওয়ার পর ভবিষ্যতে দেশের জন্য কী করতে চান?

সোহেল রানা: নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকতে চাই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠ ও সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই।

জাগো নিউজ: ধন্যবাদ আপনাকে।

সোহেল রানা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

রুমি নোমান/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]