হলে ‌‘বেড শেয়ার’ না করায় মধ্যরাতে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ১৯ মে ২০২২
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী স্বদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের সাত কর্মীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৮ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে মতিহার হলের দ্বিতীয় ব্লকের দ্বিতীয়তলার ২৩৬ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. নূর আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন তানভির, জোবায়ের, শাহীন, মানিক, স্বদেশ, নাবিল ও জারিদ। তারা সবাই একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা অনেকেই স্থানীয় ও সবাই ছাত্রলীগকর্মী বলে জানা গেছে।

স্বদেশের রুমে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি ও রাবি স্কুলের ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, আগে মতিহার হলের গণরুমে রুমে অবস্থান করতেন নূর আলম। পরে হল প্রভোস্টের মাধ্যমে তৃতীয় ব্লকে সিট পান। বুধবার রাত ১টার দিকে গণরুমে এসে তাকে ডেকে তোলেন অভিযুক্তরা। পরে তাকে ২৩৬ নম্বর রুমে নিয়ে যান। সেখানে নূর আলমকে বলেন, ‘তোকে আমরা সিটে তুলেছি। এই সিটে তোকে বেড শেয়ার করে থাকতে হবে। না হয় গণরুমেই থাকতে হবে’।

নূর আলম তাদের প্রস্তাব অস্বীকার করায় তানভীর ও জোবায়ের তার ঘাড়ে কিল-ঘুষি ও পিঠে লাথি মারতে থাকেন। মারধরের একপর‍্যায়ে নূর আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন এমন অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা এ সময় ‘তুই যদি বিভাগের ছোট ভাই না হতি তাহলে তোকে খুঁজে পাওয়া যেতো না’ বলে হুমকি দেন। এ সময় হল ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথাও শোনেননি তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নূর আলম বলেন, ‘আমি খুব ভয়ে ও আতংকে আছি। আমাকে রাত ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মানসিক ও শারীরিকভাবে নির‍্যাতন করা হয়েছে। আমি আর নিতে পারছি না। আমার সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বদেশ বলেন, ‘এটা আমাদের বাংলা বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমিই তাকে সিট দেওয়ার জন্য প্রভোস্টের কাছে সুপারিশ করেছিলাম। সিটে উঠে বড় ভাইদের সঙ্গে বেয়াদবি করায় আমার রুমে মীমাংসার জন্য ডেকেছিলাম। সেখানেই সে আমার সামনে বড় ভাইদের সঙ্গে বেয়াদবি করে।’

এজন্য শরীরে আঘাত করতে পারেন কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নূর আলম একটু কম বোঝে, সহজ-সরল ছেলে। তাকে ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইতে পারে। এখানে তানভীর, জোবায়ের সবাই তার বিভাগের বড় ভাই। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেটা মিথ্যা অভিযোগ।’

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্তরা আমাদের রাজনীতি করে না। মারধরের ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তাদের হলের সিট বাতিলের সুপারিশ করা হবে।’

আবাসিক শিক্ষক সুবেন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। মাত্র হলে এলাম।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মতিহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মুসতাক আহমেদের মোবাইলে একাধিকার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের নামে নির‍্যাতন করা অবশ্যই অন্যায়। আমরা অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত করবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. তারেক নূর বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছি। আজ বিকেলের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক আসহাবুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]