ইজারা ছাড়াই রাবি ছাত্রলীগের আমবাগান দখল, সাংবাদিকদের হেনস্তা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৫০ এএম, ২২ মে ২০২২

ইজারা না নিয়েই ক্যাম্পাসের আমবাগান দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়া এলাকার গোদাগারী নামক আমবাগানে কয়েকজন শিক্ষার্থী আম খেতে যান। এসময় ইজারা (লিজ) নেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের আম পাড়তে বাধা দেন ছাত্রলীগের নেতারা।

এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বাকবিতণ্ডার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শাকিল এবং শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজোয়ান গাজি মহারাজ। তারা উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় পশ্চিমপাড়া এলাকায় আম পাড়তে গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের বাধা দেন। সেখানে আম খেতে হলে কিনে খেতে হবে এবং এটা তারা ইজারা নিয়েছেন বলে জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের মারতে উদ্যত হন। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সংবাদকর্মী তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদেরও মারতে উদ্যত হন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা জানান, আম পাড়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাকবিতণ্ডা দেখে তাদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে যাই। তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, ‘সাংবাদিক হইছিস তো কী হইছিস, কী নিউজ করবি কর, কারে ফোন দিবি দে।’ এসময় ফোন বের করলে তারা ফোন কেড়ে নিতে আসেন এবং ধস্তাধস্তি করেন। একজন টর্চলাইট হাতে মারতে আসেন এবং পরে মারার জন্য পাশে বাঁশ খুঁজতে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন শাকিল বলেন, ছোটখাটো একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেটা সেখানেই মিটে গেছে। আমরা প্রথমে চিনতে পারিনি, পরে দেখি তারা আমাদের পরিচিত ছোটভাই। আর সেখানে তাদের সঙ্গে সাংবাদিকও ছিলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আমবাগান ইজারা নেয়নি ছাত্রলীগ। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন তারা ক্যাম্পাসে নেই। রোববার বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে বসবো।

ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বাগানটি এখনও ইজারা দেওয়া হয়নি, তবে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আমরা কাকে ইজারা দেবো এখনও ঠিক করিনি। ইজারা না পেয়েই ইজারা নিয়েছে বলে এবং শিক্ষার্থীদের মারতে উদ্যত হয়ে তারা অন্যায় করেছে। বাগানে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যও তাদের থাকতে বলা হয়নি। ঘটনার পরই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং বলে দিয়েছি যাতে তারা আর সেখানে না যায়। এছাড়া তাদের রোববার উপ-উপাচার্য দপ্তরেও ডেকেছি।

মনির হোসেন মাহিন/কেএসআর/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]