গেট থেকে সরে দাঁড়াতে বলায় সিনিয়রকে জুনিয়রের থাপ্পড়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ২২ মে ২০২২

হলে ঢোকার গেটের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বলায় সিনিয়র এক ছাত্রকে থাপ্পড় দিয়েছেন জুনিয়র এক ছাত্র। শনিবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হল গেটে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদরিল হাসান হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। অভিযুক্ত ফারহান লাবীব ধ্রুব বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা ফজলে হোসেন রাব্বীর অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অ্যাসাইনমেন্ট করতে সাদরিল বাইসাইকেল নিয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের রিডিং রুমে যাচ্ছিলেন। এ সময় ধ্রুব ও সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রায়হান নমে দুই ছাত্রলীগকর্মী হলে ঢোকার গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সাদরিল তাদের সরে দাঁড়াতে বলেন। সরে না দাঁড়ালে সাদরিল তাদের কাছে কারণ জানতে চান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ধ্রুব সাদরিলের গালে থাপ্পড় দেন।

এ সময় সাদরিল তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ধ্রুবসহ চার-পাঁচজন সাদরিলকে মারধর করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে সাদরিল বলেন, ‘আমি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হলের রিডিং রুমে যাচ্ছিলাম। ধ্রুবসহ আরও একজন হলে ঢোকার গেটেই দাঁড়িয়ে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করি তোমরা এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন? তখন ধ্রুব বলে দাঁড়িয়ে আছি মানে বলেই খুব জোড়ে আমার গালে একটা থাপ্পড় দেয়। পরে তারা আবার মারতে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিবো।

ঘটনার পর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কাজী সালমান সাকিব, ব্যবস্থাপনা বিভাগের আসিফ আহমেদ শিমুলসহ আরও কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী সাদ্দাম হোসেন হলের মাঠে সাদরিলকে ডেকে বিভিন্নভাবে মিটমাটের চেষ্টা করেন। কিন্তু সাদরিল লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা তাদের জানান।

এদিকে ধ্রুবোর বিরুদ্ধে পূর্বেও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ১২ নভেম্বর সাদ্দাম হোসেন হল মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আরিফ ও তার বন্ধুদের মারধর করেন ধ্রুব ও তার সহযোগীরা। এছাড়া একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের পেছনে ত্রিবেণী এলাকার একটি মেসের সিটে থাকা নিয়ে ধ্রুবকে কেন্দ্র করে মারামারি ঘটে। বিভিন্ন সময় মারামারি ঘটনায় ধ্রুবোর নাম এলেও বিচার না হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগের বিষয়ে ধ্রুব বলেন, ‘বিষয়টা একটা সিচুয়েশন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। উনি আমার পায়ে সাইকেল লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আমি সাবধানে চালাতে বলায় বুকে হাত দিয়ে আমাকে সরিয়ে দেন। পরে আবার ইট তুলে মারতে এসেছিলেন। পরে আমি সরি বলেছি।’

রুমি নোমান/এসজে

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]