ইবিতে খাবারের দাম বাড়লেও বাড়েনি মান

অডিও শুনুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু ডাইনিংয়ে খাবার খেতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন। কারণ কোনো নোটিশ ছাড়াই খাবারের দাম বৃদ্ধি করেছেন হল ম্যানেজার।

এমন হঠাৎ খাবারের দাম বাড়ানোর ফলে রাসেলের মতো নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থীই এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কীভাবে অতিরিক্ত টাকার যোগান হবে সে চিন্তা তাদের।

শুধু হল গুলোতেই নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ও আশপাশের হোটেলগুলোতেও বেড়েছে খাবারের দাম। প্রতিটি আইটেমে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সাদ্দাম হলের সকালের খাবারের দুটি প্যাকেজের দাম যথাক্রমে ১৫ ও ২৫ টাকা, যা আগে ছিল ১০ ও ২০ টাকা। রাতের খাবার আগে ছিল ২২ যা বর্তমানে ৩০ টাকা।

লালন শাহ হলে প্রতিদিনের খাবারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ভালো খাবারেরও দাম বৃদ্ধি ও পরিমাণ কমানো হয়েছে। এছাড়া আগে খাবারের সঙ্গে ডিম দেওয়া হলেও এখন তা দেওয়া হয় না।

তবে খাবারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের কোনো অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত নেই বলা জানান সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা খাবারের মান ঠিক রাখতে বলেছি। কোনো খাবারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।

হল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুর ও রাতের খাবারের সর্বনিম্ন মূল্য ২২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে সে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মেয়েদের সব হলে খাবারের দাম বৃদ্ধি না হলেও মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মেরিন জানান, প্রতিনিয়ত হলের খাবারে পোকা, মাছি পাওয়া যায়। এছাড়া কম মূল্যের খাবারগুলো খাওয়ার অনুপোযোগী হয়। এরই মধ্যে খাবারের দাম বৃদ্ধি হতাশাজনক। এছাড়া বাইরের দোকানগুলোতে যে যার ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করছে।

এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের ডাইনিং ম্যানেজার বলেন, আমাকে কম ভর্তুকি দেওয়া হয়। মাত্র ৩৩ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়, যা অন্যান্য হলে ৪০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, ওদেরকে চেক দেওয়া হয়, আমাকে হ্যান্ড ক্যাশ প্রদান করে। দাম বৃদ্ধি না করলে বর্তমান বাজারের সঙ্গে কীভাবে পেরে উঠবো?

এদিকে, ক্যাম্পাসের জিয়া মোড়ে অবস্থিত দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, তেলে ভাজা পরোটা আগে পাঁচ টাকা থাকলেও এখন ১০ টাকা, কিছু দোকানে তেল ছাড়া পরোটা বা আটার রুটি সাত টাকা, ৪০ টাকার মাছ এখন ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রধান ফটক ও আমতলাতে অবস্থিত দোকানগুলোতে সিঙাড়া, পুরি ও বিভিন্ন স্ন্যাক্সের পাশাপাশি সব খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্যাম্পাসের দোকানদার বশির বলেন, ময়দা, তেলসহ সবকিছুর দাম এখন দ্বিগুণ। দাম বৃদ্ধি না করলে সংসার চালানো মুশকিল।

এদিকে, দাম বৃদ্ধি কিংবা খাবারের মান নিয়ে কোনো মনিটরিং নেই বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমার ইয়ুথ সোসাইটি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মিরাজ বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের হল ও ডাইনিংগুলোতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে সতর্ক করেছি। শিগগির আমরা প্রশাসনের কাছে এসব বিষয়ে মনিটরিং ও মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি আবেদন করবো।

সার্বিক বিষয়ে ইবির প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, প্রভোস্ট কাউন্সিলে কোনো হলের খাবারের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ডাইনিং ম্যানেজাররা ভালো আইটেম রান্না করলে কিছু টাকা বেশি নিতে পারে। তবে অবশ্যই প্রভোস্ট কাউন্সিল নির্ধারিত মূল্যের খাবারও রাখতে হবে।

রুমি নোমান/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]