রাবিতে চলছে অপরিপক্ব আম-কাঁঠাল পাড়ার ‘প্রতিযোগিতা’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ২৪ মে ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ফলের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে আট শতাধিক আম গাছ রয়েছে। এবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুসংখ্যক আম বাগান ইজারা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ঈসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার আশপাশের সবগুলো আম ও কাঁঠাল গাছ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় এসব ফল পাড়া নিয়ে চলছে এক রকম অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এতে প্রশ্ন উঠেছে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব নিয়েও।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাজশাহী জেলা প্রশাসন আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২৫ মে থেকে ফজলি ও আম্রপালি আম পাড়া যাবে। এছাড়া ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারী-৪, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি এবং ২০ আগস্ট থেকে ইলামতি আম পাড়া যাবে।

RU-3.jpg

তবে এইসবের পরোয়া করছেন না শিক্ষার্থীরা। আম পাড়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, পরিপক্ব হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা বস্তা ভরে ফজলি, নাক ফজলি, ল্যাঙরা জাতের আমগুলো পেড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে রীতিমতো অপরিপক্ব ছোট আম পাড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। সবার মধ্যে আগেভাগে ফল পাড়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে আমগুলো পাকা তো দূরের কথা নরম আঁটিসুদ্ধ আম পেড়ে ব্যাগ-বস্তা ভারি করতে ব্যস্ত হয়েছেন কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ জাতের আম এখনো ঠিকমতো পরিপক্বই হয়নি। এমনকি বীজে ঠিকমতো আঁশই তৈরি হয়নি। এর মধ্যে ফলজ গাছগুলোর নিচে শিক্ষার্থীদের জটলা। কারও হাতে ইটের বড় খোয়া আবার কারও হাতে গাছের ভাঙা ডাল। এগুলো দিয়ে গাছগুলোতে ঢিল মেরে ফল পাড়ার চেষ্টা করছেন তারা। এতে করে গাছে থাকা অনেক ফলই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীকালে পচে যাচ্ছে। এছাড়া ঢিল ছোঁড়ায় আশেপাশে চলাচলরত শিক্ষার্থীদেরও সমস্যা হচ্ছে। ঢিল এসে শরীরে লাগার ভয়ের মধ্য দিয়ে গাছতলা পার হতে হচ্ছে তাদের।

আবু বকর সিদ্দিক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের আমগাছগুলো থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী দলবেঁধে আম পাড়ছেন। কতিপয় শিক্ষার্থী না বুঝেই ফজলি, নাক ফজলি, ল্যাঙরা প্রভৃতি আম পেড়ে রুমে নিয়ে যাচ্ছেন পাকিয়ে খাবেন বলে। কিন্তু তারা এতটাই অজ্ঞ যে এই আমগুলো এখনই পাড়ার সময় হয়নি। আর একজনে ১০০ জনের হক মেরে খাওয়ার প্রথা তো আছেই। ঠিকমতো খেতে পারুক আর না পারুক অনেকে অর্ধেকই নষ্ট করে ফেলেন।

RU-3.jpg

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরবি বিভাগের শিক্ষক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশের এসব আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা কাঁচা অবস্থাতেই আমের একটি বিশাল অংশ নষ্ট করে ফেলেছে। এবার কাঁঠালও কাঁচা অবস্থায় পেড়ে নিচ্ছে শুনলাম। লিচুর ক্ষেত্রেও একইরকম আচরণ করে আসছে। নিজেদের গাছ হলে এমনটা করতো না তারা।

তিনি বলেন, অতীতে এসব ফল পাড়া নিয়ে ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে হাঙ্গামাও বাধিয়েছে। এমনকি অনেকেই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এজন্যই সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো ইজারা দেওয়ার ব্যাপারটি এসেছে। ক্রমান্বয়ে একটা গোষ্ঠী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে যে, ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের বাসভবন সংলগ্ন গাছগুলোতেও তারা হানা দিচ্ছে। এটা চরম মূল্যবোধহীনতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক আসহাবুল হক বলেন, এমন অভিযোগ আমিও পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবার প্রশাসন সৈয়দ ঈসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত আম, লিচু ও কাঁঠাল গাছগুলো ইজারা দেয়নি। তবে আমি শুনতে পেয়েছি কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী অপরিপক্ব অবস্থায় আম বস্তা ভরে পারছে, এমনকি এই আম বাসায় পাঠানোর মতো ঘটনাও জানতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষার্থীরা আবার শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে আম, লিচু, কাঁঠাল বস্তা ভরে নিয়ে আসছে। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এমনটা করে না।

মনির হোসেন মাহিন/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]