মানসম্মত খাবার-পানি সংকটে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাককানইবি
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ০২ জুন ২০২২

মানসম্মত ও ন্যায্যমূল্যের খাবারের সংকটে ভুগছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খাবার পানির সংকটতো রয়েছেই। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হল ও একমাত্র ক্যাফেটেরিয়া ‘চক্রবাকে’ খাবার-পানির সংকট, দাম ও মান নিয়ে একাধিকার অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হল, দোলনচাঁপা হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল মিলিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় আড়াই হাজার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসগুলোতে থাকের অনেক শিক্ষার্থী। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া কিংবা হলের ডাইনিংয়ে খাবারের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা হলে দীর্ঘদিন ধরে ডাইনিং বন্ধ থাকায় বঙ্গবন্ধু হলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ‘অগ্নিবীণা’ হলে ও বঙ্গমাতা হলেরও সমান সংখ্যক শিক্ষার্থী ‘দোলনচাঁপা’ হলে খাবার খেতে হয়। কেউ কেউ ক্যাফেটেরিয়াতেও খেতে যান। এতে খাবার পরিবেশন করতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানান ‘অগ্নিবীণা’ হল ও ‘দোলনচাঁপা’ হলের ডাইনিং পরিচালকরা।

বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মাসুম হাওলাদার বলেন, ‘যোগ্য কেউ হলগুলোর ডাইনিং চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। ঈদের আগে যিনি ডাইনিং চালিয়েছেন তিনিও অপারগতা প্রকাশ করেছেন৷ আমরা যোগ্য কাউকে খুঁজছি৷ আশা করছি শিগগির চালু করতে পারবো।’

জয় নন্দী নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অগ্নিবীণায় ভাতের দাম বেড়ে প্লেটপ্রতি ৮ টাকা হয়।

jagonews24

দেড় প্লেট বলে তারা ভাত দেয় কিন্তু দেখা যায় এক প্লেটও হয় না। মাছ আর মুরগির টুকরোর কথা না হয় বাদই দিলাম। স্বাদের কথা বললে এক কথায় বলতে হয়- কোনোমতে খেয়ে বেঁচে আছি।’

সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাইরের হোটেলগুলোতে বেশি দামে স্বাদহীন খাবার খাই। মাঝে মাঝে সেটাও পাওয়া যায় না। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হয়। খাবার পেলেও সিট পেতে বেগ পেতে হয়।’

বঙ্গবন্ধু হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘খাবার পানি নিতেও ‘বঙ্গবন্ধু’ হল থেকে ‘অগ্নিবীণা’ হলে যেতে হয়। বঙ্গবন্ধু হলের পানির অবস্থা খুবই খারাপ। জগে রাখলে নিমিষেই জগ লাল হয়ে যায়। অনেকের শরীরে চুলকানি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়াতো হয়ইনি কোনও আশ্বাসও নেই প্রশাসনের।

হলে খাবারের মান ও দাম নিয়ে অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট কল্যানাংশু নাহা বলেন, ‘হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ২৪০ জন, আবাসিক ছাত্রদের জন্যই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ হলে প্রতিদিন খাবার খায় অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী। এ জন্যই নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হল সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য কোনো অর্থ নেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাজেটের জন্য নথি পাঠিয়েছি, সেটা এখনো আটকে আছে।’

হলের ডাইনিং বন্ধ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বঙ্গমাতা হলের প্রভোস্ট নুসরাত শারমিন তানিয়া বলেন, ‘আমরা ডাইনিং চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রণোদনা বা ভর্তুকি না দিলে কেউ ডাইনিং নিতে চাচ্ছেন না।’

আহসান হাবীব/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।