বানভাসিদের পাশে দাঁড়াতে গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ এএম, ২০ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষেরা খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসাসহ নানা সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব। পানিবন্দি মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায় কিংবা নিরাপদ কোনো আশ্রয়স্থলে। এসব বানভাসি মানুষদের পাশে এরই মধ্যে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তেমনই সুনামগঞ্জসহ আশেপাশে অঞ্চলের বানভাসিদের পাশে দাঁড়াতে পথে পথে গান গেয়ে টাকা সংগ্রহ করছেন রাজশাহীর গানের দল স্বরব্যাঞ্জো, রাবির ক্যাম্পাস বাউলিয়া ও অমরত্ব-এর শিল্পীরা।

রাজশাহীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র, জনবহুল মোড়ে মোড়ে গান গেয়ে বন্যার্তদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন তারা। পাশে বানভাসি মানুষের জন্য সাহায্য চেয়ে করা প্লেকার্ড ও দানবাক্স নিয়ে দাঁড়িয়েছেন কেউ। অন্যদিকে গান গেয়ে সাহায্যের কথা বলছেন শিল্পীরা।

জাবেদ পাটোয়ারী নামের এক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখি সুন্দর গান হচ্ছে। তাই একটু দাঁড়ালাম। পরে শুনি বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে গান করছেন তারা। জেনে আরও ভালো লাগলো। আমিও কিছু সহযোগিতা করেছি। এমন উদ্যোগের সাধুবাদ জানান এ শিক্ষার্থী।

এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আল আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ সুনামগঞ্জ ও সিলেট ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। সেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন। ব্যাপক অর্থের ক্ষতি, খাবার ও বাসস্থান সংকটে রয়েছেন তারা। তাই দেশের অন্যদের মতো ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও তাদেরকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, রোববার দুপুরে শুরু হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ভালো সাড়া ফেলেছে আমাদের কার্যক্রম। আমরা তিনদিন এমন গানের মাধ্যমে অর্থসংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবো। আশা করি একটা ভালো পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে বানভাসিদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। ক্যাম্পাস ছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টগুলো থেকে আমরা অর্থ সংগ্রহ করবো। সবাইকে কমবেশি সহযোগিতার হাত বাড়িযে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থ সংগ্রহকারীরা বলছেন, নিজেদের সক্ষমতাকে পুঁজি করে মানুষের দুয়ারে হাত পেতে যতটা সম্ভব দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করবেন তারা। সংগ্রহ করা অর্থ নিজ উদ্যোগে ত্রাণ আকারে পৌঁছানো হবে বলে জানান তারা।

মনির হোসেন মাহিন/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]