টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কলার চারা উৎপাদনে রাবি শিক্ষকের সাফল্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ২৩ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

বাংলাদেশের পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি ফলের নাম কলা। আমাদের দেশে বারোমাসই কলার উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে নানা রোগব্যাধি ও সমস্যা থাকায় বৈশ্বিক রপ্তানি শর্ত পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশে উৎপাদিত কলা।

কলার ফলন বাড়ানোর জন্য ‘হার্ডেনিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সেসব সমস্যা নিরসন করে উন্নত মানের টিস্যু কালচার কলার চারা উৎপাদনে সাফল্য মিলেছে।

আর এই কাজটি করে দেখিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আনোয়ার হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট মলিকুলার বায়োটেকনোলজি ল্যাবে এ উন্নতমানের টিস্যু কালচার কলার চারা উৎপাদন করেন।

জানতে চাইলে অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা সাধারণত সনাতন পদ্ধতিতে কলা চাষ করেন। এতে অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়া সত্ত্বেও এটি বিদেশে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। কারণ কলা ফেটে যাওয়া, গায়ে কালো দাগ পড়া, ইউনিফরমিটি (সব কলার আকার একই হওয়া) না থাকা, কাঁদির সব কলা এক বয়সের না হওয়া এবং কলায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে রপ্তানির শর্তগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু টিস্যু কালচার কলার চারা লাগালে ৬-৭ মাসের মধ্যেই কলার মোচা বের হয়। যেখানে সাধারণ চারার ক্ষেত্রে ১০-১১ মাস সময় লাগে। এছাড়া কাঁদির সব কলার আকার আকৃতি একই হবে এবং ফলনও বেশি হবে। এছাড়া এ কলার বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকের ৩০-৪০ শতাংশ বেশি লাভ হবে।

টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কলার চারা উদ্ভাবনে রাবি শিক্ষকের সাফল্য

‘হার্ডেনিং’ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক এ পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত টিস্যু কালচার কলার চারা ব্যবহার করা হয়। সুস্থ-সবল কলা গাছের স্যুট বা ফুলের টিস্যু থেকে গবেষণাগারে কাচের পাত্রে উদ্ভিদের বিভিন্ন রকমের হরমোন ও প্রয়োজনীয় খাবার ব্যবহার করে মাইক্রোস্যুট তৈরি করা হয়। পরে এই মাইক্রোস্যুটগুলোতে শিকড় তৈরি হলে ল্যাব থেকে বের করে পলি হাউজে দুই মাস ধরে বিশেষ পদ্ধতিতে বাইরের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো হয়- একে বলে হার্ডেনিং। তবে সঠিক পদ্ধতিতে হার্ডেনিং না করলে কলার চারা মাঠে লাগানোর পর মারা যেতে পারে।

এই গবেষক জানালেন, কয়েক বছর গবেষণা করে মেহের সাগর, রঙিলা সাগর, জি৯, অগ্নিশ্বর বা লাল কলার টিস্যু চারা উৎপাদন করেছেন তিনি। লাল কলার পুষ্টিগুণ সাধারণ কলার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে এতে বিটা-ক্যারোটিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকে যা রাতকানা রোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধক। ফলে এর বাজারমূল্য অনেক বেশি।

টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কলার চারা উদ্ভাবনে রাবি শিক্ষকের সাফল্য

‘হার্ডেনিং’ পদ্ধতির চারা রোপণের বিষয়ে ড. আনোয়ার জানান, দেশের সব অঞ্চলেই এই চারা রোপণ করা যাবে। বাড়ির আনাচে-কানাচে বা বাণিজ্যিকভাবে এই কলার চাষ করে যে কেউ লাভবান হতে পারেন। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ বা আশ্বিন-কার্তিকে কলার চারা রোপণ করা হয়। তবে আধুনিক পদ্ধতির এই চারা সারাবছরই পাওয়া যাবে এবং চাষ করা যাবে।

রপ্তানিযোগ্য চারা সংগ্রহের কথা জানিয়ে এ গবেষক বলেন, বর্তমানে সরকার ফল রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কৃষকদের রপ্তানিযোগ্য এ কলা উৎপাদন করা দরকার। যারা কলা চাষ করতে চান তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নতমানের এ টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।

মনির হোসেন মাহিন/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]